লেবাননের যুদ্ধপীড়িত নাবাতিয়ে অঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন দুই প্রবাসী বাংলাদেশি এবং এক শিশু। আহত ব্যক্তিরা হলেন প্রবাসী নারী কর্মী মেজিনা, তাঁর শিশু সন্তান মরিয়ম এবং অপর প্রবাসী মোহাম্মদ মমিনুল হক। কেনাকাটা শেষে মোটরসাইকেলে করে আবাসস্থলে ফেরার পথে তাঁরা এই নৃশংস হামলার শিকার হন।
হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে নিকটস্থ তুলের রাগেব হারেব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রবাসী মেজিনার বাম পা কেটে ফেলতে হয়। এছাড়া তাঁর ডান পা ও পিঠের অংশ স্প্লিন্টারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়। হামলায় শিশু মরিয়মের বাম হাত এবং মমিনুল হকের ডান পা ভেঙে যায়।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের আহত হওয়ার খবর পেয়ে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনাস্থলটি ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধাঞ্চল হওয়ায় আহতদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) লেবাননের সঙ্গেও যোগাযোগ করে দূতাবাস।
প্রায় এক মাস রাগেব হারেব হাসপাতালে চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে গত ২৫ জুন তাঁদের বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত (AUB) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে গত ১ জুলাই থেকে তাঁদের পার্শ্ববর্তী একটি হোটেলে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে প্রখ্যাত সার্জন গাসসান আবু সিত্তাহ’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘গাসসান আবু সিত্তাহ ফাউন্ডেশন’ এর সহায়তায় শিশু মরিয়মের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি মা মেজিনা এবং মমিনুল হকের চিকিৎসাও চলমান রয়েছে।
গত ৪ জুলাই বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন দূতাবাসের পক্ষ থেকে হোটেলে গিয়ে আহত প্রবাসীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে আহতদের পাশে থাকার এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন