যুক্তরাজ্যে আইআরজিসির প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
যুক্তরাজ্যে আইআরজিসির প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ

লন্ডনে সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম দমনে নতুন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে সোমবার (১৩ জুলাই) এ ঘোষণা দেয় ব্রিটিশ সরকার।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের আওতায় আইআরজিসি বা এর সহযোগী গোষ্ঠীর সদস্য হওয়া, তাদের পক্ষে সমর্থন জানানো, সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের প্রতীক প্রদর্শন করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে আইনটি কার্যকর হতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, এই নতুন আইনি ব্যবস্থা বিদেশি গোষ্ঠীর পক্ষে যুক্তরাজ্যে অপতৎপরতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বিচার করা এবং কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে।

ব্রিটিশ সরকারের দাবি, যুক্তরাজ্যের ভেতরে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আইআরজিসির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরকারের ভাষ্য, বিদেশে ইরানের রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আইআরজিসি বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে থাকে।

সরকার আরও জানায়, দ্য ইসলামিক মুভমেন্ট অব কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট নামের একটি গোষ্ঠীকে আইআরজিসি ‘প্রায় নিশ্চিতভাবেই’ পরিচালনা করেছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গোষ্ঠীটি ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়-সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় হামলার পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান অতীতেও প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সর্বশেষ ব্রিটিশ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আইনটি কার্যকর হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রাষ্ট্র-সমর্থিত এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। মনোনীত কোনো গোষ্ঠীর হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই আইনের আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, রাশিয়া নিয়মিত সামরিক শক্তির পাশাপাশি অনিয়মিত ও অস্বীকারযোগ্য বাহিনী ব্যবহার করে ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

সূত্র: রয়টার্স

এম জি