সিএনএনের বিশ্লেষণ

নিজের কৌশলেই ট্রাম্পকে ঘায়েল করছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম
নিজের কৌশলেই ট্রাম্পকে ঘায়েল করছে ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেন তাঁর নিজের কৌশলেই ঘায়েল করার চেষ্টা করছে ইরান। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কোনো চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে ইরানের ওপর ভরসা করা যায় না। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে নিজের বেরিয়ে যাওয়ার ট্র্যাক রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে আত্মবিরোধী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নিজস্ব টোল আরোপের হুমকি দেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে উপহাস করে লেখেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের টোল নেওয়ার অবস্থানকে প্রকারান্তরে বৈধতাই দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন চতুর অবস্থান ইঙ্গিত করে যে, ইরান কেবল কঠিন দরকষাকষিই করছে না, বরং সমঝোতা স্মারকের নিজস্ব সুবিধাজনক ব্যাখ্যাও দাঁড় করাচ্ছে।

কয়েক সপ্তাহ আগেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর সই করা সমঝোতা স্মারক ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির স্থায়ী অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু বর্তমান অচলাবস্থার মুখে তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি বদলে গেছে। সোমবার আরেকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওই সমঝোতা ছিল কেবল একটি পরীক্ষা, যেখানে ইরান ব্যর্থ হয়েছে এবং সেটির বিশেষ কোনো গুরুত্ব ছিল না।

এই নতুন সংকটের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের তাড়াহুড়ো করে করা একটি অস্পষ্ট সমঝোতা চুক্তিকে দায়ী করছেন সমালোচকরা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে আলোচনাকারী দল সম্ভবত বুঝতেই পারেনি যে, ইরান চুক্তির এই অস্পষ্ট ভাষাকে ভবিষ্যতে নিজেদের কৌশলগত সুবিধা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, তেহরান ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে। তবে ইরান এখন এটিকে প্রণালির ওপর তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের এক ধরনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে।

সমঝোতা স্মারকটি কার্যত ভেঙে পড়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে একের পর এক সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও ট্রাম্পের কঠোর হুমকি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের গতিপথ এখনও অনেকটাই তেহরান নির্ধারণ করছে।

অবশ্য অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বর্তমানের এই পাল্টাপাল্টি হামলার উদ্দেশ্য হয়তো সমঝোতা স্মারকের নিজ নিজ ব্যাখ্যাকে প্রতিষ্ঠা করা, যাতে ভবিষ্যতে আবারও নতুন কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি হয়। ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাব সত্ত্বেও এই সংকটের এখনও একটি কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়ে গেছে।

জেএইচআর