ট্রাম্পের প্রাইমটাইম ভাষণ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ
১৪ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও এক নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, ঠিক তখনই এক আকস্মিক ও নাটকীয় ঘোষণার মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী বৃহস্পতিবার রাতে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বিরল 'প্রাইমটাইম ভাষণ' দিতে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি এক 'বিরাট বড় খবর' শেয়ার করবেন।

হোয়াইট হাউসের এই আকস্মিক ঘোষণা মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ভাষণের বিষয়ে ইঙ্গিত দিলেও, এর মূল বিষয়বস্তু কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। 

তবে তিনি এটি পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই ভাষণটি মূলত আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থা এবং এর সাথে সম্পর্কিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে এবং দেশজুড়ে ভোটদানের ক্ষেত্রে নতুন বেশ কিছু কড়া বিধিনিষেধ আরোপের জন্য চাপ দিচ্ছে।

ভাষণের সময়সূচি এবং কীভাবে দেখা যাবে?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বহুল আলোচিত ভাষণটি আগামী বৃহস্পতিবার মার্কিন ইস্টার্ন টাইম (ET) রাত ৯টায় (গ্রিনিচ মান সময় শুক্রবার রাত ০১:০০টা) সরাসরি হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রচার করা হবে।

আমেরিকার প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো এই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই বড় বড় ব্রডকাস্টারদের কাছ থেকে এই লাইভ এয়ারটাইমের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া, যারা টেলিভিশনের বাইরে ডিজিটাল মাধ্যমে এটি দেখতে চান, তাদের জন্য হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এটি সরাসরি লাইভস্ট্রিম করা হবে।

সময় নির্বাচন, কেন এই মুহূর্তটি এত তাৎপর্যপূর্ণ?

ট্রাম্পের এই প্রাইমটাইম ভাষণের সময় নির্বাচন অত্যন্ত নিখুঁত এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা আর মাত্র সাড়ে তিন মাস দূরে রয়েছে। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।

বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই (সিনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) অত্যন্ত সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষকে পুঁজি করে ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।

গবেষণা ও জনমত জরিপকারী প্রতিষ্ঠান 'ইউগভ' (YouGov)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে ৫৭ শতাংশেরও বেশি মার্কিন ভোটার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তুষ্ট। এমন এক সময়ে যখন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী, তখন এই প্রাইমটাইম ভাষণকে অনেকেই তার নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি বা 'কোর বেস'-কে নতুন করে চাঙ্গা করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

সমালোচকদের আশঙ্কা, বিরোধীরা মনে করছেন, ট্রাম্প এই ভাষণের মাধ্যমে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি করতে পারেন। অথবা, আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থা যা ঐতিহ্যগতভাবে রাজ্য (State) ও স্থানীয় সরকার পরিচালনা করে, তার ওপর ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারেন।

কী নিয়ে কথা বলতে পারেন ট্রাম্প?

যদিও বৃহস্পতিবারের ভাষণ নিয়ে অনেক কিছুই এখনও গোপন রাখা হয়েছে, তবুও হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের সূত্রে কিছু আভাস পাওয়া গেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সরকারের নিজস্ব তদন্তের বেশ কিছু নতুন এবং সদ্য অবমুক্ত করা গোয়েন্দা তথ্য (Declassified Intelligence) দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে পারেন।

এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, আমেরিকার বর্তমান ভোটিং মেশিন বা ভোট গণনা করার যন্ত্রগুলোর মধ্যে এমন কিছু প্রযুক্তিগত দুর্বলতা রয়েছে, যা বিদেশী সাইবার আক্রমণকারীদের (Foreign Cyber Intrusions) অবৈধ প্রবেশের সুযোগ করে দিতে পারে। এই বিষয়ে ট্রাম্পকে যখন সরাসরি সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন যে, ভাষণটি ভোটিং মেশিনের সততা নিয়ে হবে কি না, তিনি সংক্ষেপে উত্তর দেন' এটি সেই বিষয়ের সাথেই সম্পর্কিত হবে।

২০২০ সালের নির্বাচন ও তার পরবর্তী অধ্যায়

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও তার নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় দাবির মূল ভিত্তি লুকিয়ে আছে ২০২০ সালের সেই ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। ২০২০ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন, তখন তার মুখোমুখি হয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী এবং বারাক ওবামার আমলের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

সেই নির্বাচনে জো বাইডেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি কেবল পপুলার ভোটেই (জনগণের সরাসরি ভোট) জয়ী হননি, বরং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি 'ইলেক্টোরাল কলেজ' ভোটেও নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। 

নির্বাচনের এই স্পষ্ট ফলাফলের পরও ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরাজয় মেনে নেননি। তিনি বারবার দাবি করে এসেছেন যে, তার কাছ থেকে নির্বাচনটি 'চুরি' করা হয়েছে। এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি, যখন তার হাজার হাজার সমর্থক ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে (মার্কিন সংসদ ভবন) হামলা চালায়, যেখানে তখন জো বাইডেনের জয়ের চূড়ান্ত প্রত্যয়ন বা সার্টিফিকেশন চলছিল।

নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সংশয় ও আইনি জটিলতা

আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অবিশ্বাস কিন্তু ২০২০ সাল থেকে শুরু হয়নি; এর ইতিহাস আরও পুরোনো। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেও তিনি হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় স্পষ্ট করে বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন যে, তিনি হেরে গেলে ফলাফল মেনে নেবেন কি না। 

২০১৬ সালে জেতার পরও তিনি দাবি করেছিলেন যে, পপুলার ভোটে তিনি হেরেছেন কেবল লাখ লাখ অবৈধ ভোটের কারণে। সেই দাবি তদন্ত করতে তিনি একটি প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন গঠন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে কোনো জালিয়াতির প্রমাণ না পেয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।

২০২০ সালের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের এই দাবি আরও তীব্র রূপ নেয়। তিনি জর্জিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বলেছিলেন, জর্জিয়ায় বাইডেনের জয় উল্টে দেওয়ার জন্য যেন তার জন্য '১১,৭৮০টি ভোট খুঁজে বের করা হয়'। এই ধরনের কার্যকলাপের কারণে ট্রাম্প এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রাজ্য এবং ফেডারেল উভয় স্তরেই দুটি বড় ফৌজদারি মামলা বা ইনডাইটমেন্ট দায়ের করা হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ)-এর দীর্ঘদিনের নিয়ম (যেখানে বলা হয়েছে একজন দায়িত্বরত বা সিটিং প্রেসিডেন্টকে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করা যাবে না) অনুযায়ী ফেডারেল মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 

অন্যদিকে, জর্জিয়ার রাজ্য স্তরের মামলাটিও স্থবির হয়ে পড়ে যখন ফুলটন কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ফানি উইলিসকে এই মামলা পরিচালনা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করার আইনি লড়াই শুরু হয়।

এত কিছুর পরও ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েননি। অথচ আমেরিকার ফেডারেল সাইবার সিকিউরিটি ওয়াচডগ সংস্থা 'সিআইএসএ' (CISA) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল যে, ২০২০ সালের নির্বাচন ছিল 'আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন। ট্রাম্পের নিজস্ব মিত্রদের দ্বারা পরিচালিত একাধিক তদন্তেও ভোট জালিয়াতি বা বিদেশী হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ২০২০ সালের নির্বাচনের ফাইলগুলো নতুন করে খোলার চেষ্টা করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আকস্মিকভাবে জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে এফবিআই (FBI) এজেন্টরা অভিযান চালায় এবং ২০২০ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত বেশ কিছু গোপনীয় নথি ও সামগ্রী জব্দ করে। 

স্থানীয় কর্মকর্তারা এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ বা জব্দ করা জিনিসের তালিকা দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি এফবিআই মেমো থেকে জানা গেছে, সংস্থাটি এই তদন্তের জন্য শত শত বিশেষ এজেন্ট নিয়োজিত করেছে।

পাশাপাশি, ট্রাম্প তার অ্যাক্টিং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (DNI) বিল পুন্টেকে নির্দেশ দিয়েছেন ২০২০ সালের নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল জনসাধারণের জন্য অবমুক্ত বা ডিক্লাসিফাই করতে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ট্রাম্পের ভোটিং সংস্কার এজেন্ডা

বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই কার্ড খেলছেন। রয়টার্সের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত মাত্র ছয় মাসে ট্রাম্প বিভিন্ন জনসভায় ১০৭ বারেরও বেশি দাবি করেছেন যে ২০২০ সালের নির্বাচনটি ছিল একটি কারচুপির নির্বাচন। 

এমনকি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাইমারি নির্বাচনকেও তিনি 'কারচুপি'বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী স্পেন্সর প্র্যাটকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান এবং দাবি করেন যে প্র্যাটের পরাজয়ের পেছনেও ভোট জালিয়াতি ছিল।

ট্রাম্পের এই তৎপরতার পেছনে একটি বড় রাজনৈতিক ভয় কাজ করছে। যদি রিপাবলিকানরা এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে ডেমোক্র্যাটরা তাকে আবার ইমপিচ বা অভিশংসন করতে পারে। এছাড়া কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার মেয়াদের বাকি দুই বছর কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প আমেরিকার নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার মূল ক্ষমতা রাজ্যগুলোর হাতে, তবুও ট্রাম্প একে কেন্দ্রীয়করণের চেষ্টা করছেন। তিনি বিশেষভাবে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) নামক একটি বিল পাসের পক্ষে জোর দিচ্ছেন।

ইন-পার্সন প্রুফ অব সিটিজেনশিপ,এই আইনের অধীনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের সশরীরে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ (যেমন জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট) দেখাতে হবে। বিরোধীদের মতে, এটি সাধারণ বৈধ ভোটারদের জন্য একটি বড় বাধা, কারণ অনেকের কাছেই এই মুহূর্তে এই ধরনের নথি থাকে না এবং বেশিরভাগ রাজ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর দিয়েই ভোট দেওয়া যায়।

মেইল-ইন ব্যালট বা ডাকযোগে ভোটের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ও বিলের মাধ্যমে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সীমিত করতে চেয়েছিলেন। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জুনে রায় দিয়েছে যে, নির্বাচনের দিন বা তার আগে পোস্টমার্ক করা থাকলে নির্বাচনের পরেও মেইল-ইন ব্যালট গণনা করা যাবে।

তহবিল বাতিলের হুমকি, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, যেসব রাজ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের ভোটার তালিকা হস্তান্তর করবে না, তাদের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA)-এর জরুরি তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তীব্র প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই আসন্ন প্রাইমটাইম ভাষণের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তারা মনে করছেন, দেশের প্রধান প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ট্রাম্পকে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য কোনো এয়ারটাইম দেওয়া উচিত নয়।

মার্কিন সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অজুহাত তৈরি করতে এবং আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর দাবি ছড়াতে এই প্রাইমটাইম ভাষণকে ব্যবহার করতে যাচ্ছেন। আমাদের সবার উচিত হবে তথ্যের ওপর ভরসা রাখা, তার মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তির ফাঁদে পা না দেওয়া।

আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর বেন রে লুজান ট্রাম্পকে একজন "দুর্নীতিগ্রস্ত" ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই ব্যক্তিটিই এর আগে একটি নির্বাচনকে উল্টে দেওয়ার জন্য ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গা উসকে দিয়েছিলেন এবং ইমপিচড হয়েছিলেন।

পরিশেষে বলা যায়, বৃহস্পতিবার রাতের এই ভাষণটি কেবল একটি সাধারণ বক্তব্য নয়, বরং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমেরিকার ক্ষমতার লড়াইয়ের রূপরেখা নির্ধারণে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে যাচ্ছে।

এএন