আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত আরও তীব্র রূপ নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। টানা ১১তম দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের সতর্কবার্তার পর লোহিত সাগরে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮২ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ১৬ ডলারে। এর আগে মঙ্গলবার পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল তেলের বাজার।

চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি আরবের তেল বহনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইতিমধ্যে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাব এল-মান্দেব এখন সৌদি তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠেছে।

হুথিদের এই সতর্কবার্তার পর মঙ্গলবার চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া সৌদি অপরিশোধিত তেলবাহী তিনটি ট্যাংকার লোহিত সাগরে নিজেদের দিক পরিবর্তন করে সুয়েজ খালের দিকে ফিরে যায়। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এশিয়ামুখী জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হবে, যা সময় ও পরিবহন খরচ দুটিই অনেক বাড়িয়ে দেবে।

পাশাপাশি কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নতুন উত্তেজনাও তেলের বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। কৃষ্ণসাগরে তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় কাজাখস্তানের তেল পরিবহনের প্রধান রুট ‘ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম’ তেল লোডিং স্থগিত রেখেছে। রাশিয়া এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করলেও কিয়েভ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। আইএনজি সতর্ক করেছে, এই স্থগিতাদেশ দীর্ঘায়িত হলে কাজাখস্তানকে তাদের তেল উৎপাদন কমিয়ে আনতে হতে পারে।

এদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত বেড়েছে, যদিও পেট্রোলের মজুত কিছুটা কমেছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) এই মজুতের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।

জেএইচআর