বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

‎জোরপূর্বক শ্রম সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে শিথিলতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশভেদে এই শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আমেরিকার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সাময়িকভাবে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হতেই নতুন এই পদক্ষেপে গেল হোয়াইট হাউস। নতুন নির্দেশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত মোট পণ্যের প্রায় ৯৯.৪ শতাংশই শুল্কের আওতায় আসছে। তবে তেল, গ্যাস, সার এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্যকে এর বাইরে রাখা হয়েছে। আগামী শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে, তবে ২৮ জুলাইয়ের আগে পরিবহনাধীন পণ্যগুলো ছাড় পাবে।

‎যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অস্বচ্ছ বাণিজ্য রোধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‎নতুন এই নীতির অধীনে—
· ‎১০% শুল্ক: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশের ওপর।

· ‎১০% থেকে ১২.৫% শুল্ক (সমন্বিত): ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ওপর।
· ‎১২.৫% শুল্ক: চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশের ওপর।

‎তীব্র প্রতিবাদ বিভিন্ন দেশের
‎যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা সিদ্ধান্তের পর তাৎক্ষণিকভাবেই ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে একাধিক রাষ্ট্র। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে জানিয়েছেন, তাদের দেশে জোরপূর্বক শ্রম রোধে স্পষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও এমন শুল্ক আরোপ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও কানাডাও এই পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে এটি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।

জেএইচআর