ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির একটি সরকারি হাসপাতালের প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের শরীরে ছররা গুলির আঘাতের প্রমাণ মিলেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে বিক্ষোভ করে সিজেপি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে।
দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের এক রোগীর কেস শিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর ডান কনুই ও পিঠে ছররা গুলির (পেলেট) আঘাত পাওয়া গেছে। ক্ষতের চারপাশের চামড়া কালো হয়ে গেছে এবং চামড়ায় গুলির টুকরো আটকে রয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ দাবি করেছে যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ বাহিনী পেলেট গান ব্যবহার করেছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
জানা গেছে, পেলেট গান ও শক ব্যাটন সাধারণত সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অধীনস্থ দাঙ্গা-বিরোধী ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) ব্যবহার করে থাকে। সোমবার দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি যন্তর মন্তরে তারাও মোতায়েন ছিল। তবে পেলেট গানের ব্যবহার নিয়ে সিআরপিএফ এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালে গুরুতর আহতদের মধ্যে সাহিল লোচাব নামে নজফগড়ের এক কিশোরের ডান চোখে, মুখে, গলায় ও বুকে একাধিক ছররা গুলির আঘাত লেগেছে। একটি ছররা তার ডান চোখে বিদ্ধ হয়ে কর্নিয়ায় গভীর ছিদ্র তৈরি করেছে এবং আরেকটি ছররা তার ডান ফুসফুসের কাছে পাওয়া গেছে। এইমস ট্রমা সেন্টারে তার চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া গুরুগ্রামের বাসিন্দা শেখ মনসুরি (২৫) নামের আরেক যুবকের মুখেও সাতটি ছররা গুলির আঘাত লেগেছে।
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথমে ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, দ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভ মোকাবিলায় কাপুরুষতা ও অকারণ নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছে। সরকার যুবকদের জাতির শত্রু হিসেবে গণ্য করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ভিডিওবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধানসংবলিত একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন