চীন-পাকিস্তানকে রুখতে ২০০ যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে চায় ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
চীন-পাকিস্তানকে রুখতে ২০০ যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে চায় ভারত

চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত নৌবহর এবং পাকিস্তানের বহরে চীনে নির্মিত আধুনিক আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ যুক্ত হওয়াকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে ভারত। এই প্রেক্ষাপটে আগামী এক দশকের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ২০০-এর বেশি করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি। এ পরিকল্পনা ভারত মহাসাগরকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও সামরিক প্রস্তুতির নতুন দিক তুলে ধরছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি মাসেই ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান। দুটি জাহাজই ভারতে নির্মিত। প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর যে নীতি ভারত অনুসরণ করছে, এই সংযোজনকে তারই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইএনএস মহেন্দ্রগিরির নকশা প্রণয়ন করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো এবং এটি নির্মাণ করেছে মাজাগন ডক শিপবিল্ডার্স। জাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ উপাদান স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতির প্রতিফলনও এতে স্পষ্ট।

মহেন্দ্রগিরি নীলগিরি শ্রেণির ষষ্ঠ স্টেলথ ফ্রিগেট। একই শ্রেণির সপ্তম যুদ্ধজাহাজ বিন্ধ্যাগিরি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নৌবহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রজেক্ট-১৭ ব্রাভো’ কর্মসূচির আওতায় আরও সাত থেকে আটটি নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর মোট জাহাজের সংখ্যা প্রায় ১৫০। এর মধ্যে প্রায় ১৩৫টি ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার ও ডুবোজাহাজের মতো সম্মুখসারির যুদ্ধজাহাজ। এছাড়া আরও প্রায় ৫০টি জাহাজ বিভিন্ন পর্যায়ে নির্মাণাধীন রয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সঞ্জয় মিশ্রের মতে, যেহেতু নতুন বহরের বড় অংশ দেশীয়ভাবে নির্মিত হবে, তাই ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ যুদ্ধজাহাজের লক্ষ্য অর্জন বাস্তবসম্মত। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এই সংখ্যাও অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিশ্র আরও বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের অন্তত দুটি পূর্ণাঙ্গ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সর্বদা প্রস্তুত নৌবহর প্রয়োজন। তবে এমন সক্ষমতা গড়ে তুলতে যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সহায়ক জাহাজও বহরে যুক্ত করতে হবে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভারত জাহাজ অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রতি ছয় সপ্তাহ অন্তর একটি করে নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে। শুধু গত দেড় মাসেই দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণে নির্মিত পাঁচটি নতুন জাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর বহরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

ভারতের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করা। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিশেষায়িত ইস্পাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের জন্য এখনও আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পুরোনো শিপইয়ার্ড অবকাঠামোও এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

এএন