নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম পদক্ষেপ হোক তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর। সেমিনারে উপস্থিত বক্তা ও অংশগ্রহণকারীরা এই দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে, যা দেশের মোট মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য অংশ।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হলেও নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশনে এটি আইনে রূপান্তরিত না হলে এর কার্যকারিতা লুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনে এটি আইনে রূপান্তরের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) ও তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)-এর উদ্যোগে সোমবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় “তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫: জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন ও পরবর্তী করণীয়” শীর্ষক সেমিনার।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, তামাক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি বিভিন্ন মাদক ব্যবহারের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি বড় অর্জন। এই অর্জন ধরে রাখতে প্রথম সংসদ অধিবেশনেই অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা জরুরি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শেখ মোমেনা মনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ধূমপায়ীরা যেন আবেদন করতে না পারে এমন নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ধূমপানমুক্ত করা সম্ভব হবে। রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনে যারাই নতুন সরকার গঠন করুক, তাদের কাছে দাবি থাকবে এই অধ্যাদেশ যেন দ্রুত আইনে পাস করা হয়।
ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এটি আইনে রূপান্তরিত করার জন্য তার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মো. আখতারউজ-জামান বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রথম অধিবেশনেই এটি আইনে পরিণত করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তরিত না হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তামাক শিল্পের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় শক্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। এটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল (WHO FCTC) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে এগিয়ে থাকবে।
সেমিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও তামাকবিরোধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন