আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের সুখবর নিয়ে আসছে নতুন সরকার। এবার কোনো ধরনের আইনি প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া ছাড়াই নির্দিষ্ট কিছু খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সম্পূর্ণ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
বিশেষ করে জমি, ফ্ল্যাট বা বিল্ডিং কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিলের মূল্যের চেয়ে প্রকৃত বাজার মূল্যের পার্থক্য থাকলে, তা নির্দিষ্ট হারে কর প্রদানের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ থাকছে। সবার ক্ষেত্রেই এই বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এমন বড় সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এই লক্ষ্যেই এবারের নতুন অর্থবিলে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিশেষ আইনি ধারা সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটিই প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ধারাটি যুক্ত করার প্রস্তাব সংসদে পাস হলে কোনো করদাতার জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার প্রকৃত মূল্য দলিল মূল্যের চেয়ে বেশি হলে তিনি ওই অপ্রদর্শিত অর্থের ওপর নিয়মিত করহারে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন।
অর্থ আইন বা বাংলাদেশে প্রচলিত অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিত হয়ে এই নির্দিষ্ট কর পরিশোধ করলে সে বিষয়ে আয়কর বিভাগ বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন বা আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না।
জানা গেছে, যদি অর্থ আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির এ ধরনের বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কার্যক্রম ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত ক্রয় বা বিক্রয়মূল্যের ওপর প্রযোজ্য করের সঙ্গে আরও অতিরিক্ত ২০ শতাংশ জরিমানা বা কর পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া এ ধরনের অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের জন্য আদালতে আগে থেকেই দোষী প্রমাণিত হওয়া কোনো ব্যক্তি এই বিশেষ কর মওকুফের সুবিধা কোনোভাবেই পাবেন না।
আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপ্রদর্শিত অর্থ দেশে বিনিয়োগ করার আইনি সুযোগ দিলে বিদেশে টাকা পাচার অনেকটাই কমে আসবে।
এর ফলে অচল মূলধন দেশের অর্থনীতির মূলধারায় ফিরবে এবং দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ খাতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে যাবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন