প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর, গুরুত্ব পাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর, গুরুত্ব পাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক

আগামী জুনের শেষে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে বেইজিংয়ে এটি তাঁর প্রথম সফর হতে যাচ্ছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সফরকালে তিনি চীনের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিসির (কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না) চেয়ারম্যানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন ও ইনভেস্টমেন্ট সামিটেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সরকারপ্রধান ও বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের আগামী ২২ জুন রাতে চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাঁচ দিনের এই সফরে রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

সফরের কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ ‘ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ বা বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ দেবেন। এর পরপরই চীনের শীর্ষস্থানীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান চেরি, হান্ডা এবং চায়নাটেক্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। একই দিনে তিনি ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং পরদিন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সঙ্গে বিএনপির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফর ঢাকা-বেইজিংয়ের সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তবে কৌশলগত কারণে এই সফরের দিকে প্রভাবশালী অনেক দেশেরই বিশেষ নজর থাকবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও তা চীনের সঙ্গে অংশীদারত্বে কোনো সংকট তৈরি করবে না। সামনে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, আসিয়ানের (ASEAN) সদস্যপদ কিংবা পর্যবেক্ষক হওয়া এবং আরসেপে (RCEP) যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য চীনের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গার্মেন্টস ও ফুটওয়্যার রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণে চীনের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের অবকাঠামোগত টেকসই উন্নয়নের জন্য চীনের সঙ্গে এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদারত্ব বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জেএইচআর