স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বন্ধের উদ্দেশ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়নি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
বন্ধের উদ্দেশ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়নি

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হাসপাতাল বন্ধ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার সময় ছয়টি শিশু জীবন বাঁচানোর জন্য লড়াই করছিল। অথচ সেখানে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা ছিল না। কক্ষের এসি, জানালা ও দরজা বন্ধ ছিল। শিশুদের স্বজনরা সাহায্যের জন্য ছুটোছুটি করলেও কোনো চিকিৎসক উপস্থিত হননি। তার ভাষ্য, কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাবে শিশুদের মৃত্যু ঘটে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউনাইটেড হাসপাতাল কিংবা বার্ন ইউনিটের অগ্নিকাণ্ড ছিল দুর্ঘটনা। কিন্তু আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মন্ত্রীর দাবি, ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে যাননি। তবে তিনি নিজে পরদিন সেখানে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারা অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেন।

লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অনেকেই হাসপাতালটির স্বল্প খরচে ডায়ালাইসিস সেবার কথা উল্লেখ করছেন। সেটি সত্য হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম হলে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তাই হাসপাতালের লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, হাসপাতাল বন্ধ করা হয়নি।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনুমোদিত ভবনের একটি অংশে বেকারি পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য জমে রয়েছে, যা অগ্নিকাণ্ডের বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। তার অভিযোগ, মালিকের অবহেলার কারণে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এনে তার স্ত্রীকে প্রধান নির্বাহী করা হয়েছে।

সরকার স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। কোনো ধরনের অবহেলার কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

এম জি