জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মুখে ইসলামের কথা বলা হলেও দলটির ৯৩ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারের কোথাও শরিয়া আইন, ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা কিংবা ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো অঙ্গীকার নেই।
রোববার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের শাখা হলেও তাদের রাজনৈতিক ইশতেহারে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। সংসদে ইশতেহার প্রদর্শন করে তিনি বলেন, এত বড় রঙিন ইশতেহারেও শরিয়া ব্যবস্থা বা ইসলামী বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো উল্লেখ নেই।
শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইশতেহারে শুধু মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাধারণ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে প্রতিষ্ঠিত দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পক্ষেও ছিল না, আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতারও বিরোধিতা করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় গভর্নর মালেক সরকারের মন্ত্রিসভায় জামায়াত নেতাদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। পাশাপাশি ১৯৭৯ সালে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ পেয়ে দলটির পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন সময়ে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার অভিযোগও তোলেন।
বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং ইসলামী ব্যাংক ও ইবনে সিনা ট্রাস্ট নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনারও জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এ ঋণ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি আগে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা সঠিক বলে দাবি করেন।
এ ছাড়া ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিপুল পরিমাণ শেয়ার নামমাত্র মূল্যে বিক্রির দালিলিক প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন