জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করতে এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে বাংলাদেশি সদস্যদের উপস্থিতি বাড়াতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বেশি বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন, উচ্চপদে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট পাঠানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের (ডিওএস) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এসব বিষয় তুলে ধরেন।

বৈঠকে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টের পরিচালনাগত সহায়তা, আর্থিক প্রতিপূরণ দ্রুত নিষ্পত্তি, পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম, ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডার বাস্তবায়ন এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনার শুরুতে সালাহউদ্দিন আহমদ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি বাহিনীর প্রতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সহজ ও দ্রুত করতে ডিওএসের ধারাবাহিক সহায়তার জন্য অতুল খারেকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ মিশনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে ডিওএসের পরিবেশ বিভাগের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনের কার্বন নিঃসরণ কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতায় বিভিন্ন মিশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ, উপযোগী ও পরিবেশবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী শান্তিরক্ষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

হাইতির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পুলিশ সেখানে মোতায়েনের জন্য অত্যাধুনিক ও উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট প্রস্তুত করেছে। প্রচলিত ইউনিটের তুলনায় এসব ইউনিট সোয়াত অভিযান, র‌্যাপিড রেসপন্স, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ, ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ব্যবস্থাপনা, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার অপরাধ তদন্ত, নৌ-অভিযান এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ দক্ষ।

হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রস্তাবও উপস্থাপন করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুলাই ২০২৬ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। ওই আলোচনা সফল করতে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফর্মড পুলিশ ইউনিট পাঠানোর পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের স্বনির্ভর ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবে বিশেষায়িত বাংলাদেশি পুলিশ টিম বা প্লাটুন মোতায়েনেও বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

বৈঠকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকার অধীনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।

জবাবে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশের উদ্যোগেরও প্রশংসা জানিয়ে হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

এএন