শিক্ষামন্ত্রী

পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ভুল হওয়ার দায় বিগত সরকারের

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ভুল হওয়ার দায় বিগত সরকারের
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার ঘটনায় দায় বিগত সরকারের ওপর চাপিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। তাই এ প্রশ্নপত্র তাদের আমলে তৈরি হয়নি। বিগত সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা মডারেটরদের প্রণীত প্রশ্নেই এই ত্রুটি ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে ভুল থাকা দুটি প্রশ্নে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে বলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়লেও পরীক্ষা কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি মানা হয়নি। তিনি জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে কী ধরনের সমস্যা ছিল।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে অন্য এলাকায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।

তিনি জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হয়। সবার কাছ থেকেই অনুকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার পর বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরদিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, সিটি মেয়র, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে একটি পাঁচতলা ভবনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং যে শিক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তার জন্য বাড়ি থেকে পোশাক এনে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের পরিস্থিতির কথা জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সরকারকে জানাননি। তাই ওই কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অন্যত্র পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যমান পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কোনো এলাকায় পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলে জেলা প্রশাসক, ইউএনও ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা পরীক্ষা স্থগিত বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। সরকারও নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং তারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ এলাকাতেই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এএন