জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি খাতকে দায়িত্ব দিতে চায় সরকার

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি খাতকে দায়িত্ব দিতে চায় সরকার

দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও আর্থিকভাবে টেকসই করতে ধাপে ধাপে এ খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি পরিচালনায় আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব আহ্বান করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পাইকারি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হলেও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পরিচালিত হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে।

তিনি ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লিসহ বিভিন্ন বড় শহরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সফলভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একইভাবে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও এ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

ইকবাল হাসান মাহমুদের মতে, বিদ্যুৎ বিতরণে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়লে বিল আদায়ের হার উন্নত হবে, গ্রাহকসেবা আরও কার্যকর হবে এবং সরকারের আর্থিক দায়ও কমে আসবে। তিনি বলেন, সরকারের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নীতিনির্ধারণে, আর খুচরা পর্যায়ের সেবা পরিচালনা বেসরকারি খাতের মাধ্যমে হওয়াই অধিক কার্যকর।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সরকারের ওপর চাপ কমবে বলে তিনি মনে করেন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ক্লাস্টারভিত্তিক ছাদ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় বিনিয়োগকারীরা সৌর প্যানেল স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন এবং নেট-মিটারিং পদ্ধতিতে সরাসরি গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যয় আদায় করবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকবে, সেসব ভবনের মালিকদের পৌরকর বা মিউনিসিপ্যাল করে ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, যারা এ উদ্যোগে অংশ নেবেন না, তাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি জানান, বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। এ খাতে চীনা বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ রয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী।

এম জি