রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এ বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ এবং জনগণের ভোট ও সমর্থনের ভিত্তিতেই জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত করা প্রয়োজন। উন্নয়ন কার্যক্রমে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়নের সুযোগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সুযোগ-সুবিধার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল জানান, তাদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি যথাযথ কারণ ছাড়া কোনো চেয়ারম্যানকে সহজে অপসারণ করা না যায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন সরকারি অর্থ আত্মসাৎ না হয় এবং দরিদ্র মানুষের প্রাপ্য অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দলটির নামের সঙ্গে গণতন্ত্র শব্দটি মানানসই নয়।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি উন্নত ও সুন্দর দেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধর্মের নামে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হওয়া উচিত, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন