পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

দীর্ঘদিনের আলোচনা ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো রাজনৈতিক চাপ কাজ করেনি। তিনি ব্যক্তিগত কারণেই দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে কেন্দ্র করে বিকেল ৫টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসংক্রান্ত বিষয়েই এই ব্রিফিং আয়োজন করা হয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের একটি শীর্ষ পদে কর্মরত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন পান। ওই পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তার অপসারণের দাবি তোলে। তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয় এবং বঙ্গভবনের সামনেও আন্দোলন হয়। তবে সাংবিধানিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণের পথে যায়নি। সে সময় বিএনপিও এ দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়নি। ফলে বিষয়টি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হলেও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর ৮ আগস্ট তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্যদের শপথ পড়ান। যদিও তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তার পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছিলেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা মূলত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞাপন জারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও তার উপস্থিতি ছিল সীমিত। এমনকি জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতেও তিনি অংশ নিতে পারেননি।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মৌখিক নির্দেশনার পর বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ঘটনায় নিজের অপমানবোধের কথা উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি দায়িত্ব ছেড়ে যেতে আগ্রহী। দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা গেছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তার ভাষায়, এতে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে রাষ্ট্রপতিকেও হয়তো সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, যা তাকে গভীরভাবে অপমানিত করেছে।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয়ের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসে। রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় উঠে আসে। তবে মার্চ মাসে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ তখনও উল্লেখযোগ্য সময় বাকি থাকায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি।

তবে চার মাসের ব্যবধানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটল। অবশেষে পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন।

এম জি