রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। পদত্যাগের পর তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন। ইতিমধ্যে সেখানে ওঠার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে থাকায় এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। তবে তিনি দেশে ফেরার পর পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে।
বঙ্গভবনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতির মনোনীত কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে তাঁদের ব্যক্তিগত মালামাল গুছিয়ে নিয়েছেন। কয়েক দিন আগেই রাষ্ট্রপতি তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। পদত্যাগের পর গুলশানের বাসভবনে কিছুদিন অবস্থানের পর চিকিৎসা ও বিশ্রামের উদ্দেশ্যে তাঁর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বঙ্গভবনে দায়িত্বরত আরেক কর্মকর্তা বলেন, দুই দিন আগে স্যার নিজে আমাদের চলতি মাসের মধ্যে বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো চলে যাওয়ার কথা বলেন। তবে 'কারা' তাঁকে চলে যেতে বলেছে, এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
হঠাৎ রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের পেছনে দুটি মূল কারণ কাজ করছে বলে রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রে গুঞ্জন রয়েছে। প্রথমত, চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ফোনালাপের তথ্য পায় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। দ্বিতীয়ত, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা।
সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারও মনে করছে এই পরিস্থিতিতে মো. সাহাবুদ্দিনকে আর রাষ্ট্রপতির পদে রাখা সমীচীন হবে না। তবে এই রাজনৈতিক ও আইনি পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন