জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কমবে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কমবে

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে দেশে চলমান গ্যাস সংকট কিছুটা কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার (২৭ জুলাই) তিনি এ তথ্য জানান।

গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সংকট কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটির কারণে নয়, বরং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সমস্যার কারণে তৈরি হয়েছে। সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সংকটের সমাধান করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। এজন্য সরকার বারবার দুঃখ প্রকাশ করছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহ থেকে দেশে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে, যা ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রতিদিন দেশে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট এবং বাকি অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদনে কোনো সমস্যা নেই। তবে একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণে আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরুতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করেছিল। পরে ত্রুটি মেরামতের জন্য যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার ভিত্তিতে আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কমতে শুরু করবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে বয়লার বিস্ফোরণের কারণে কারিগরি ত্রুটি সৃষ্টি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে যদি ৫০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়, তাহলে পরবর্তী সপ্তাহ থেকে পুরোপুরি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত গ্যাস দিয়েও বর্তমানে দেশের মোট চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভোলার অতিরিক্ত গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চলছে। মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

অমিত বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি খাতে কাজ হয়নি। আগের সরকার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে তাৎক্ষণিক সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এম জি