বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের ছাত্র-জনতা ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে। তবে স্বৈরাচারের পতন হলেও জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ২০২৬ সালের রমজানের আগে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। অথচ কয়েকটি রাজনৈতিক দল (পি.আর. পদ্ধতি) নামে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। সংবিধানে (পি.আর. পদ্ধতি) বলে কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশের জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে আছে। কোনো অপশক্তিই ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না।
শনিবার দুপুরে ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে দীর্ঘ ১১ বছর পর নেত্রকোণা জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হলো গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস, সন্ত্রাসবাদের ইতিহাস, ধর্ষণের সেঞ্চুরির ইতিহাস এবং হেলিকপ্টার থেকে নিরস্ত্র মানুষ হত্যার ইতিহাস। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ থাকলেও পতিত স্বৈরাচার যাতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য সব স্বৈরাচারবিরোধী রাজনৈতিক দলকে সতর্ক থাকতে হবে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম নির্বাচিত সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে।
সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ডা. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুন, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম, অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, ড. এডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট মাহফুজুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার প্রমুখ।
সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক (প্রতীক: ছাতা) এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জি.পি. এডভোকেট মাহফুজুল হক (প্রতীক: চেয়ার)।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ডা. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী (প্রতীক: মাছ), যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. মনিরুজ্জামান দুদু (প্রতীক: ফুটবল) এবং জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি (প্রতীক: গরুর গাড়ি)।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশন কাউন্সিল অধিবেশনে পরিণত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলছিল।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন