বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদের সেই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব, যেগুলো সংবিধানকে স্পর্শ করে না। এ বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক মতামত সবসময় প্রদান করা হয়েছে, এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলও একই রকম মত দিয়েছেন।”
বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, “আমরা জুলাই সনদ স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত। সনদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এর মাধ্যমে আগামী দিনে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হবে। আমাদের বিশ্বাস এই প্রচেষ্টা সফল হবে।”
সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে মোট ছয়টি মতামত এসেছে রাজনৈতিক দলগুলো থেকে। কমিশন আলোচনার মাধ্যমে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। এগুলো হলো: অধ্যাদেশ প্রণয়ন, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ। এদের মধ্যে অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংবিধান স্পর্শ না করা সুপারিশগুলো কার্যকর করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত ১৯টি মৌলিক বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ও পদক্ষেপ নিয়ে কমিশন বৈঠক ডেকেছিল, যেখানে প্রত্যেকে মতামত দিয়েছেন।”
বিএনপি নেতা বলেন, “আশু বাস্তবায়নযোগ্য যেকোনো সুপারিশ, যা জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত, তা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে। যেগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সেগুলোও সরকারের উদ্যোগে শেষ করা সম্ভব, এবং পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগুলো সম্পন্ন করবে। সমস্ত রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করে জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদের দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা হবে। প্রভিশনাল কনস্টিটিউশনাল অর্ডার জারির মাধ্যমে কোন সুপারিশ এখনই কার্যকর করা যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আমাদের সাজেশনও দেওয়া হয়েছে।”
তিনি নোট অফ ডিসেন্ট বিষয়ে বলেন, “আমরা দুটি বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছি। এই বিষয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, যদি আমরা ম্যান্ডেট পাই। এটি কোনো ভায়োলেশন নয়; পরবর্তী সংসদে গৃহীত হলে জনগণের অভিপ্রায় হিসেবে গণ্য হবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন