মিয়া গোলাম পরওয়ার

হিন্দুদের উন্নতির জন্য ইসলামি শাসন দরকার

মো. নুরুল আমিন, খুলনা প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম
হিন্দুদের উন্নতির জন্য ইসলামি শাসন দরকার

খুলনার ডুমুরিয়ায় অনুষ্ঠিত হিন্দু সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর প্রকৃত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার স্বাধীনতা চত্বরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর হিন্দু কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা দেশ চালিয়েছে, তারা হিন্দুদের ব্যবহার করেছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে। কেউ তাদের অধিকার রক্ষা করেনি, বরং শোষণ করেছে।

গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশ থেকে সন্ত্রাস, দখলদারি ও চাঁদাবাজি নির্মূল করা হবে। তিনি বলেন, হিন্দুদের আর ভয় পাওয়ার সময় নেই। যারা ভয় দেখায়, তাদের হুমকি জনগণই প্রতিহত করবে। পরিবর্তনের সময় এসে গেছে এই পরিবর্তন ইসলামি ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্ভব।

জামায়াত নেতা বলেন, ডুমুরিয়া-ফুলতলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কৃষি পুনরুজ্জীবন ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ইসলামি সরকারই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি নৌকা, শীষ, লাঙল—এখন সময় এসেছে দাঁড়িপাল্লার। মানুষ শান্তি চায়, আমরাই সেই শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাম্প্রতিক সাফল্যের উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিচ্ছে। সেই রায় ভবিষ্যৎ নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়েও প্রতিফলিত হবে।

তিনি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত দেড় হাজার শহীদ ও আহত ৪০ হাজার মানুষের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেই আমরা গণভোট চাই। নভেম্বরেই গণভোট, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন এই পথেই দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী। তিনি বলেন, হিন্দুরা আর কারও তাস নয়। আমরা শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন চাই। নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোটটি দাঁড়িপাল্লার প্রতীকেই দেওয়া উচিত।

মতুয়া সংঘের সভাপতি সুদীপ্ত কুমার সুন্দর মন্ডল বলেন, আমরা সংখ্যালঘু পরিচয় নয় বাংলাদেশি পরিচয় চাই। স্বাধীনতার পর থেকে হিন্দু সমাজের ন্যায্য দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। এবার আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করব।

ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে মিছিল এসে সম্মেলনস্থলে জমায়েত হয়। পরে এক বর্ণিল গণমিছিল উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

সম্মেলনে স্থানীয় হিন্দু কমিটি ও জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মী ছাড়াও নারী প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু কমিটি ও সংখ্যালঘু সদস্যদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলের পুনর্গঠনের কৌশলের অংশ, যাতে  সমন্বিত নাগরিক অংশগ্রহণ  তুলে ধরে নতুন ভোটভিত্তি তৈরি করা যায়।

ইএইচ