খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এক বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা থেকে নির্বাচন ও প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তীব্র বার্তা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, যদি সত্যিকারের নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তবে যাঁরা অন্যায় করেন তাঁদের জন্য কোনো দরজা খোলা থাকবে না।
শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে শোভাযাত্রা যাত্রা শুরু হয়। দলের দাবি, এতে পাঁচ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল অংশ নেয়-যা স্থানীয়ভাবে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় এমন সমাবেশগুলোর একটি।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪-এই তিনটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা মানুষের মনে ভয় তৈরি করেছে। সেই ধরনের অনিয়ম যদি আবারও ঘটে, তাহলে জাতির সামনে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে।
তিনি প্রশাসনকে সরাসরি উদ্দেশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে মাঠ-প্রশাসন-সবাই নিরপেক্ষ থাকুন। একেক প্রার্থীর জন্য একেক নিয়ম চলবে-এটি মানুষ আর মেনে নেবে না।
তার দাবি, নিরপেক্ষ ভোট হলে জনগণের রায় স্পষ্টভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে যাবে।
গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল পুলিশ প্রশাসনকে দেওয়া সতর্কতা। তিনি বলেন, অতীতে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে আইনি জবাবদিহিতে পড়েছেন। এবারও যদি কেউ অন্যায়ের পথে হাঁটেন, ভবিষ্যতে কারও নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না।
এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি অতীতের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
পথসভায় গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষ নতুন করে আশা দেখছে। আগের মতো বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই আমরা রাজনৈতিক কার্যক্রম করতে পারছি। এ পরিবর্তনের ধারা আসলে জনগণই তৈরি করেছে। তার মতে, তরুণ প্রজন্মই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় বাহক। নতুন ভোটাররাই ন্যায়ের পক্ষে, স্বচ্ছতার পক্ষে দাঁড়াচ্ছে-কথা বলেন তিনি। নির্বাচনের আগে অর্থের ছড়াছড়ি নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যারা কোটি কোটি টাকা খরচ করে নমিনেশন নিশ্চিত করছে, তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার-সুযোগ পেলে আরও টাকা তুলবে, আরও দুর্নীতি করবে।
রাজনীতি থেকে কালো টাকার প্রভাব সরাতে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জিরো পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে শোভাযাত্রা গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া, চুকনগরসহ বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়ানো মানুষ হাত নেড়ে নেতাদের শুভেচ্ছা জানান। যুবকদের স্লোগান ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার–পোস্টারে পথজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। শেষে শিরোমণি শহীদ মিনার চত্বরে সমাবেশে গিয়ে কর্মসূচিটি শেষ হয়।
সেখানে সভাপতিত্ব করেন হরিণটানা থানা জামায়াতের আমির জি. এম. আব্দুল গফুর। বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু ইউসুফ, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুসসহ স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশের সামগ্রিক বার্তা ছিল একটাই, স্বচ্ছ নির্বাচন দিন, পক্ষপাত করবেন না, জনগণের রায়কে সম্মান করুন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন