বিজয় দিবসে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম
বিজয় দিবসে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন।

সোমবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। এ পুণ্যদিনে তিনি দেশবাসীসহ সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক এই কামনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই দিনটিতে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান এবং বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে, বিদেশি শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি সশ্রদ্ধ সালাম জ্ঞাপন করেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহ্বানে যে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেটি সেই বছর ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার মাধ্যমে বিজয়ে পৌঁছায়। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে এই বিজয় ছিনিয়ে আনেন। তাই ১৬ ডিসেম্বর হলো জাতির অহংকার, আনন্দ এবং বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন। আজকের এই মহান দিনে তিনি সেই সব বীর সেনাদের প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানান।

তিনি মন্তব্য করেন, শোষণমুক্ত এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল নতুন রাষ্ট্রের মর্মমূলে। কিন্তু পরবর্তীতে অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে পদদলিত করে জনগণের ওপর সর্বনাশা দুঃশাসন চাপিয়ে দেয়। এর ফলস্বরূপ, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ হয়ে যায়।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের নীলনকশা আজও চলমান রয়েছে। আগ্রাসী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করার ঔদ্ধত্য দেখায়। ওই অপশক্তির এদেশীয় এজেন্টরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করার জন্য চক্রান্তজাল বুনে চলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ষোল বছর ধরে তারা একের পর এক প্রহসনের একতরফা নির্বাচন আয়োজন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য করেছে। এর মাধ্যমে এদেশের মানুষের সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। নাগরিক স্বাধীনতা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অধিকারহারা হয়ে পড়ে। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয়, এবং সংবাদপত্রসহ বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতাকে নিরুদ্দেশ করা হয়। গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে আসে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে গুম ও হত্যা করে এবং লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে। এই পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যময় রূপ নেয়। যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, সেই অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছিল। অমানবিক নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য একের পর এক গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করার লক্ষ্যে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে। এর ফলস্বরূপ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার দুনিয়া-কাঁপানো আন্দোলনে তারা পরাজিত হয়। এতে ইতিহাসের এক নিষ্ঠুরতম একনায়কের পতন হয়। দেশে আবার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। এই মুহূর্তে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এই বিজয়ের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক আমরা যেন বিভেদ ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকতে পারি। মহান বিজয় দিবসে তিনি দেশবাসী সকলের প্রতি সেই আহ্বান জানান এবং বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

জেএইচআর