জামায়াত আমির

দেশ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে নতুন রাজনীতি করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক  প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫, ১০:৫৪ এএম
দেশ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে নতুন রাজনীতি করতে হবে

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে নতুন রাজনীতি করার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের বস্তাপচা সব রাজনীতিকে পায়ের তলে ফেলে দিতে হবে, কারণ সেই রাজনীতি বাংলাদেশে অচল।

মঙ্গলবার সকালে যুব র‍্যালি ম্যারাথন ‘রাজপথে বিজয়ে’ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এখন বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি করতে হবে, যেই রাজনীতি হবে দেশ, জাতি, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে। যেই রাজনীতি হবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পক্ষে। যেই রাজনীতি হবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দখলদার, মামলাবাজ, ধর্ষণকারীদের বিপক্ষে।”

তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কোনো দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের দ্বার খুলে দেবে। তিনি সতর্ক করেন, অতীতের বস্তাপচা রাজনীতি স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং এই রাজনীতির সমাপ্তি টেনে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে হবে।

আওয়ামী লীগের শাসনামল প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী আর একটি দলের স্বার্থে সাজানো হয়েছিল। সোনার বাংলা গড়ার কথা বলে তারা দেশকে শ্মশান বাংলায় পরিণত করেছে এবং সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে রূপান্তর করেছিল। তিনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ও রক্ষী বাহিনীর নামে 'জল্লাদ বাহিনী' গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলে এবং বাকি মানুষকে দাস বানানো হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস ও মৌলিক মানবাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের বারবার ক্ষমতায় আসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিন দফা ক্ষমতায় এসে তারা দেশকে দিয়েছে ছোপ ছোপ রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের নৃশংসতা— এসবই সেই ধারাবাহিকতার অংশ। সুবর্ণচরের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খুন, ধর্ষণ আর আয়নাঘরের রাজনীতি চালানোর কারণেই তাদের পালাতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলীয় বিজয় চাই না। চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের মোড়ক উন্মোচন হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জনগণই তা প্রতিরোধ করবে।

নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কমিশনকে কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে এবং প্রশাসনকে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, কালো টাকার বিনিময়ে মানুষ কেনার দিন শেষ।

তিনি যুবসমাজকে সব বাধা ভেঙে দিয়ে শান্তির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই বিজয় দিবসকে নতুন শপথ নেওয়ার দিন হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

ইএইচ