মো. আমানউল্লাহ আমান

একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৫:০১ পিএম
একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়ের পতাকা মিছিল কর্মসূচি প্রাক্কালে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চেতনার সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম অবিচ্ছিন্নভাবে জড়িত। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সাহসী ঘোষণা ও নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল।

মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রিয় উপস্থিতি, আমরা জাতীয়তাবাদী সত্তায় বিশ্বাসী ছাত্রসমাজ। অন্য কোনো ছাত্রসংগঠন নয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়ে ওঠা সংগঠন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়।

মো. আমানউল্লাহ আমান তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে যখন জাতি দিশেহারা, তখন মেজর জিয়াউর রহমানের কালজয়ী স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করে। তিনি বলেন, এই ঘোষণা শুধু একটি বার্তা নয়, এটি ছিল বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার ডাক। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর শহীদ জিয়া গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি।

ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এসে বাংলাদেশ আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি, নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন,  নির্বাচন কমিশন  তফসিল ঘোষণা করার  পর, তখনই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। আমির থেকে শুরু করে কর্মী পর্যন্ত  নির্বাচন বন্ধ ও বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।

বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ছাত্রনেতা ওসমান হাদীকে হত্যার চেষ্টার ঘটনা তুলে ধরে মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, ওসমান হাদীসহ যেসব নৃশংস ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত আমরা দাবি করছি।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তি এবং ২৪-এর পরাজিত শক্তি এই দুই গোষ্ঠী কেউই চায় না দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। এই শক্তিগুলোর কাছেই প্রশ্ন করা উচিত, কারা ওসমান হাদীকে খুন করতে চেয়েছিল।

তিনি বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই বিজয় দিনে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ নিচ্ছি দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বক্তব্যের শেষাংশে মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, ২৪ ও ৭১-এর পরাজিত শক্তিকে রুখে দিয়েই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই লড়াইয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তি বিজয়ী হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। আমরা আশা করছি, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে আসবেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।

সমাবেশ শেষে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিজয়ের পতাকা মিছিল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। নেতাকর্মীরা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জাতীয়তাবাদী চেতনা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জেএইচআর