জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতা: চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা, জোটে ভাঙনের সুর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ১০:৪৯ এএম
জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতা: চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা, জোটে ভাঙনের সুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মোড় নিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনী আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। 

জামায়াতের দায়িত্বশীল সূত্র ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দু-এক দিনের মধ্যেই এই সমঝোতার বিষয়টি পরিষ্কার হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবারই আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটের ঘোষণা আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এনসিপি শুরুতে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার চেষ্টা করলেও সেখানে কোনো কার্যকর ফলাফল আসেনি। এরপর জামায়াতের সঙ্গে তাদের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোতে শুরু করে। এনসিপির পক্ষ থেকে অন্তত ৫০টি আসন দাবি করা হলেও জামায়াত এই সংখ্যাকে অনেক বেশি মনে করছে। 

তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, দর-কষাকষির পর ৩০টি আসনে রফা হয়েছে এবং সমঝোতা অনুযায়ী এনসিপি বাকি ২৭০ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না।

এদিকে জামায়াতের সঙ্গে এই সম্ভাব্য সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এনসিপির ভেতরে অস্থিরতা ও মতভেদ তৈরি হয়েছে। দলের একটি অংশ জামায়াতবিরোধী অবস্থানে অনড় থেকে এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করছে। এরই রেশ ধরে গতকাল দল থেকে পদত্যাগ করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। তবে দলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনে জয়ী হতে হলে বিএনপি বা জামায়াতের মতো বড় শক্তির সঙ্গে সমঝোতা করা ছাড়া বিকল্প নেই।

অন্যদিকে, এনসিপির এই অবস্থানে ফাটল ধরেছে সদ্য গঠিত ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটে’। গত ৭ ডিসেম্বর এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে এই জোট গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের বাইরে একটি তৃতীয় শক্তি হিসেবে। 

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, এনসিপি ও এবি পার্টি বড় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে জোটের মূল উদ্দেশ্য ও বোঝাপড়া লঙ্ঘন করেছে। 

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুঁইয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অবস্থান পরিষ্কার করবেন।

সব মিলিয়ে, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতটি আসনে রফা হয় এবং তারেক রহমানের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের সাক্ষাৎ কোনো নতুন মোড় আনে কি না, তা দেখার জন্য পরবর্তী কয়েক দিন দেশের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইএইচ