নির্বাচনে কখনোই পরাজয় বরণ করেননি খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৮:২৪ এএম
নির্বাচনে কখনোই পরাজয় বরণ করেননি খালেদা জিয়া

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে অজেয় এক রেকর্ডের অধিকারী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। 

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। গত চার দশকের নির্বাচনী ইতিহাসে তিনি এমন এক বিরল কৃতিত্বের অধিকারী, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাঁর একটিতেও পরাজয় বরণ করেননি। 

১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রতিবারই ৫টি করে আসনে প্রার্থী হয়ে সব কটিতেই বিপুল ভোটে জয়ী হন। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি যে ৩টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তার সব কটিতেই বিজয়ী হন।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক বৈরিতা ও আইনি জটিলতার কারণে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেননি। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর ৩টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের আগেই তিনি পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।

খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে তিন দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তাঁর নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তিত হয়।

১৯৯৬ সালে এক মাসের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের পর সপ্তম সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রীর ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে ২০০১ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে ব্যালট যুদ্ধের ময়দান—সবখানেই বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও আপসহীন নেত্রী। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নক্ষত্রের পতন হলো, যার নির্বাচনী সাফল্যের রেকর্ড ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইএইচ