২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সকল কর্মকাণ্ডের জন্য রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ‘দায়মুক্তি’ দাবি করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একই সঙ্গে এই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা শহীদ হওয়া এলাকার তৎকালীন ওসি ও এসপিদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তিন দফা দাবি ও দুটি কর্মসূচি তুলে ধরেন।
সংগঠনটির তিন দফা দাবিগুলো হলো, ১. হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানকে কেবল জামিন নয়, বরং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকাণ্ডের জন্য অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। ৩. জুলাই বিপ্লবে অবদান রাখা সশস্ত্র বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্মাননা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশীদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যেসব থানার অধীনে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার ওসি, এসপি এবং তাঁদের তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এই তালিকা আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করব।”
হবিগঞ্জের ঘটনা প্রসঙ্গে সংগঠনটির নেতারা জানান, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশ পরিদর্শককে হুমকির অভিযোগে আটক মাহদী হাসানকে রবিবার আদালত জামিন দিলেও তার বিরুদ্ধে মামলা বহাল রাখা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিবুল ইসলাম বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতাকে যেমন বিশ্বব্যাপী মুক্তিকামী জন
তার অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, আমাদের এই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও তেমন আইনি ভিত্তি প্রয়োজন।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের দায়মুক্তি চাওয়ার বিষয়টি আইনের শাসনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী একবার গ্রেপ্তার এবং পরে চাপের মুখে জামিন দেওয়ার এই প্রবণতা ‘মবক্রেসি’ বা নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দায়মুক্তির অধ্যাদেশ জারি না হলে এবং দাবিগুলো পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন