দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট নই। দেশের মানুষ এখন নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে।
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যে হারে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হচ্ছে, বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকে সম্প্রতি খুন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছি কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং নির্বাচনের সময় যেন এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলমান সফরকে ‘ব্যক্তিগত ও শুভেচ্ছা সফর’ হিসেবে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, তারেক রহমান নিজের জেলা বগুড়া সফর করবেন। সেখান থেকে রংপুরে জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর দিনাজপুরে নানী এবং ঠাকুরগাঁওয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল পরবর্তী গণদোয়ায় অংশ নেবেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো তাঁর নৈতিক দায়িত্ব, সেটিই তিনি করছেন। তাঁর এই জেলা সফরে স্বাভাবিকভাবেই নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। ফলে সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি। তবে জকসু নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কখনোই কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং এবারও ফেলবে না।
একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকে ইতিবাচক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নিজেরাই এটি চেয়েছিলাম। সংসদীয় যে সংস্কারগুলো নিয়ে গণভোট হচ্ছে, সেগুলো তো আমাদের বহু আগের দাবি। ২০১৬ ও ২০২৩ সালে ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা এই প্রস্তাবগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেছিলাম। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই সেখানে ‘না’ বলার কোনো কারণ দেখছি না।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন