চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জামাল উদ্দিন নামে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী একদল দুর্বৃত্তের অতর্কিত গুলিবর্ষণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় নাসির উদ্দিন ওরফে ছোট নাসির নামে অপর এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যার অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় অবস্থান করছিলেন জামাল উদ্দিন ও নাসির উদ্দিন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করে। অতর্কিত এই হামলায় পালানোর সুযোগ পাননি তারা। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন জামাল উদ্দিন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠান। বর্তমানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফটিকছড়ি থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ছয় রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে অত্যন্ত শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছেন এবং হামলাকারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছেন।
নিহত জামাল উদ্দিন এবং আহত নাসির উদ্দিন উভয়ই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে দলীয় কোনো কোন্দল নাকি পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ গণমাধ্যমকে বলেন, গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত এবং একজন আহত হওয়ার খবর আমরা নিশ্চিত করছি। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে তারা জামায়াতকর্মী। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনে আমরা কাজ করছি। জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলমান রয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো ফটিকছড়ি উপজেলা এবং বিশেষ করে লেলাং ইউনিয়নে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনটি মোটরসাইকেলে কতজন ছিল এবং তারা কোন দিক দিয়ে পালিয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক কোনো অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পিত হামলা কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন