বগুড়া-২ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মাহমুদুর রহমান মান্না

বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
বগুড়া-২ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মাহমুদুর রহমান মান্না

নির্বাচনী রাজনীতির মারপ্যাঁচে নানা প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে অবশেষে জয়ী হলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বগুড়া-২ আসনে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানির পর তা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

রোববার নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মান্নার নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত পথ প্রশস্ত হলো।

নির্বাচন কমিশনে মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। শুনানিতে তিনি মান্নার হলফনামা সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিপরীতে শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে কমিশন পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেয়। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয় হিসেবে দেখছেন তার সমর্থকরা।

এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিলের সময় তিনটি প্রধান অসংগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল:

ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন: হলফনামায় বিচারাধীন বা পূর্বের মামলার সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
স্বাক্ষরের অসংগতি: এফিডেভিট বা হলফনামা সম্পাদনের এক দিন পর স্বাক্ষর করার বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রশ্ন তোলা হয়।
সম্পদ বিবরণী: সঠিক ফরম্যাটে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তবে আপিল শুনানিতে মান্নার আইনজীবীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, এসব ভুল ছিল অনিচ্ছাকৃত বা পদ্ধতিগত, যা প্রার্থিতা বাতিলের মতো গুরুতর নয়। উল্লেখ্য যে, বগুড়া-২ আসনে বাতিল হলেও ঢাকা-১৮ আসনে তার মনোনয়নপত্র শুরু থেকেই বৈধ ছিল।

প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি বরাবরই বিশ্বাস করতাম যে অগণতান্ত্রিক ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত টিকবে না। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রার্থিতা বাতিলের জন্য যে ধরনের 'মবোক্রেসি' বা উগ্র আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কিছু ছোট গণমাধ্যম অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রিপোর্ট পরিবেশন করেছে, যার বিরোধিতা করা আজ সময়ের দাবি। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা নতুন কিছু নয়, তবে সত্যের জয় সবসময়ই অনিবার্য।

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার খবর পৌঁছানোর পর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং বাকপটু হিসেবে পরিচিত মান্না এই আসনে অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী। তার ফিরে আসায় এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ এখন নতুন মোড় নিল।

মাহমুদুর রহমান মান্না কেবল একজন প্রার্থী নন, তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া কেবল ব্যক্তিগত বিজয় নয়, বরং এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মান্নার মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এই নির্বাচনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

এএন