বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের ডামাডোল এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বড় দলগুলোর মধ্যে জোটবদ্ধ হওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে চলমান জল্পনার অবসান হতে চলেছে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, শরিক দলগুলোর সাথে আসন বণ্টনের আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তা চূড়ান্ত রূপ পাবে।
সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সাথে দীর্ঘ বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী।
জামায়াত স্পষ্ট করে জানিয়েছে তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে। ক্ষমতায় গেলে জামায়াত বিশ্বের সকল শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে।
নির্বাচনে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে জামায়াতে ইসলামী সমমনা দলগুলোকে নিয়ে ১১ দলীয় জোট গঠন করেছে। এই জোটের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শরিকদের সাথে আলোচনা করছি। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যেই জাতির সামনে আমরা আমাদের চূড়ান্ত আসন বিন্যাস তুলে ধরতে পারব। এই সমঝোতা সম্পন্ন হলে নির্বাচনী ময়দানে জোটগতভাবে বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে জাতীয় স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন আর পুরনো অপরাজনীতি দেখতে চায় না, তারা প্রকৃত সংস্কার চায়। জামায়াত সেই আকাঙ্ক্ষার সাথেই একমত। বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে আমরা পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী দেখতে চাই। তবে স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা কাম্য নয়, বিচার বিভাগের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনী পরিবেশে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থেকে সকল দলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়েও কথা বলেন। তিনি প্রত্যাশা করেন যে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র বা দলীয় মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে না, বরং দেশের ও মানুষের সত্য তুলে ধরবে।
দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে অতীতের সরকারগুলো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে, যা পুনর্গঠনে এখন সময়ের প্রয়োজন।
জামায়াত আমিরের এই ঘোষণাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে নির্বাচনের মাঠে শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যায় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে জামায়াত কেবল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং একটি সুসংগঠিত জোটের নেতৃত্ব দিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। আগামী ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে এই ১১ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হবে। একই সাথে তারা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে এবং গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান করেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন