জামায়াত আমিরের যে একটি কথা চরমোনাই পীরের আত্মসম্মানে লেগেছে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
জামায়াত আমিরের যে একটি কথা চরমোনাই পীরের আত্মসম্মানে লেগেছে

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে সরে দাঁড়ালো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি এককভাবে ২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো জোটে নেই। আমাদের প্রার্থীরা ২৬৮টি আসনে ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।

যেভাবে ভাঙল ঐক্যের সুর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, আসন বণ্টন এবং জোটের নেতৃত্ব নিয়ে জামায়াত আমিরের কিছু বক্তব্যে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন এই দলটির নীতি-নির্ধারকদের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলের জরুরি বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রতিনিধি যোগ না দেওয়ায় ফাটলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যদিও জামায়াত নেতারা আশা করেছিলেন, রাতের সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের অনুপস্থিতি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দেয়। মূলত আসন সমঝোতায় নিজেদের গুরুত্ব এবং একক সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণের লক্ষ্যেই ইসলামী আন্দোলন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবুও আশাবাদী জামায়াত জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলগুলো অবশ্য এখনো আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জোটের পরিধি বড় করতে তারা এখনো আশাবাদী। প্রয়োজনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত তারা ইসলামী আন্দোলনকে জোটে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

তবে আজকের এই কড়া বার্তার পর নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইসলামী ভোট ব্যাংক দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন জোটের নেতারা।

জেএইচআর