যারা অন্যায় করেননি তাদের সমস্যা হবে না, আ.লীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
যারা অন্যায় করেননি তাদের সমস্যা হবে না, আ.লীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর দেশের মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারেনি। এবার সেই কলঙ্কিত ইতিহাস মুছে ফেলার এক মহাসুযোগ এসেছে।

 দুপুরে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর পর বিকেল থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। 

সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল্টিহরি বাজারে গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন। এরপর ১১ মাইল, বৈরাগীহাট, পয়সাফেলা ও মুন্সিরহাট এলাকায় ভোটারদের সাথে কুশলবিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের হাসিনা আপা ভারতে চলে গেছেন। তিনি সেখানে গিয়ে ভালো করেছেন, কিন্তু নিজের দলের সাধারণ সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের চরম বিপদে ফেলে গেছেন কেন? তারা এখন দিশেহারা। 

বিপরীত রাজনৈতিক শিবিরের সাধারণ কর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। যারা সুনির্দিষ্টভাবে অন্যায় বা অপরাধ করেছে, কেবল তাদেরই শাস্তি হবে। কিন্তু যারা নির্দোষ, তাদের গায়ে কাউকে হাত দিতে দেওয়া হবে না। আপনারা নির্ভয়ে থাকুন।

ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সাথে নিজের ব্যক্তিগত ও আবেগী সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই। এই জনপদ থেকে নির্বাচনে লড়তে গিয়ে আমি কখনো জিতেছি, কখনো হেরেছি। কিন্তু জয়-পরাজয় যা-ই হোক, আমি কখনোই আপনাদের ছেড়ে যাইনি। 

নিজের বয়সের প্রসঙ্গে তিনি হাস্যরস ও দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমার বয়স এখন ৭৮ বছর। কিন্তু মনের দিক থেকে আমি এখনো তরুণের মতো তেজস্বী। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের সেবায় এখনো অনেক কাজ করার ক্ষমতা আমার আছে। সুযোগ পেলে এই এলাকার অমীমাংসিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করব।

ঠাকুরগাঁওয়ের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান, আমরা সবাই যুগ যুগ ধরে একসাথে বসবাস করি। আমাদের উৎসবে হিন্দুরা আসে, আবার হিন্দুদের পূজায় আমরা যাই। এই ভ্রাতৃত্বই আমাদের শক্তি।

কিছু অপশক্তি দেশে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা কাউকে আলাদা করে দেখতে চাই না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিএনপির অঙ্গীকার। আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দল জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন বাজারে নতুন দল আসছে, জামায়াত। তারা কি আগে কখনো ক্ষমতায় ছিল? তারা কি দেশের উন্নয়নে বড় কোনো ভূমিকা রেখেছে? মনে রাখবেন, বিএনপিই একমাত্র পরীক্ষিত দল। আমরাই উন্নয়ন করতে জানি। 

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় গেলে এলাকায় নতুন স্কুল, উন্নত রাস্তাঘাট, আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। উন্নয়ন মানেই ধানের শীষ, এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। 

মির্জা ফখরুলের এই প্রচারণায় নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনী আমেজ ফিরে আসায় ঠাকুরগাঁওয়ের আনাচে কানাচে এখন উৎসবের মেজাজ বিরাজ করছে। 

বিএনপির মহাসচিবের এই সফর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রচারণাকে নতুন গতি দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইএইচ

 

ইএইচ