জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলবে: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই চলবে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লড়াই চলমান থাকবে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির প্রধান লক্ষ্য হলো সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে দলটির ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এনসিপির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ পরবর্তী সময়ে আমরা যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছি, সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আমাদের চিন্তা ও আদর্শের জায়গাটি গণঅভ্যুত্থানের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগস্টে শহীদ মিনারে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলেছিলাম। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে এমন এক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যার কারণে আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে পৌঁছাতে পারিনি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এখন এমন এক বন্দোবস্ত করতে হবে, যা বাংলাদেশে স্বৈর্তন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিশ্চিত করবে।’

জোট গঠন নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন পুরোনো দলের সাথে জোট করার ফলে আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে সরে এলাম কি না। আমরা স্পষ্ট করতে চাই, এটি মূলত একটি নির্বাচনী জোট। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মাধ্যমে আমরা আমাদের সংস্কারের দাবিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ কারণেই এনসিপির পক্ষ থেকে আমরা আলাদা ইশতেহার দিচ্ছি।’

নাহিদ ইসলাম তারুণ্য ও মর্যাদাকে দলের প্রধান এজেন্ডা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে একটি নতুন প্রজন্মের আবির্ভাব হয়েছে। ফ্যাসিবাদের সময় নাগরিক মর্যাদা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। আমরা মানুষের মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। এ ছাড়া আমাদের স্লোগান হলো আধিপত্যবাদ বিরোধিতা। নিজের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রকে পুনরায় গঠনের মাধ্যমেই জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে মন্ত্রিসভা ও সংসদে আমরা কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেব, তা এই ইশতেহারে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা মনে করি, নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি লড়াই এবং এ যাত্রার মধ্যেই আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।’

ইএইচ