কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আজ অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের সমাবেশে এক বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কমা আগামী নির্বাচনে এই জোট ক্ষমতায় গেলে জুলাইয়ের ছাত্র কমা জনতার বিপ্লবের সময় সংঘটিত গণহত্যা এবং চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ডের শিকার শরিফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তাঁর মতে কমা ইনসাফ কায়েম করতে হলে এই খুনিদের বিচার করার কোনো বিকল্প নেই। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঙ্কার দিয়ে প্রতিবেশী একটি দেশের নাম উল্লেখ না করে অভিযোগ করেন যে কমা তারা বারবার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন কমা আগামীতে কারা এই দেশ শাসন করবে কমা তা কেবল এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ নির্ধারণ করবে। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি বা বিদেশি প্রভু আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারবে না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে কমা কোনো পক্ষ যদি আসন্ন নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করে কমা তবে ছাত্র কমা জনতা জুলাইয়ের আন্দোলনের মতোই রাজপথে নেমে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক একটি নাম না জানা রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন কমা একটি দল প্রকাশ্যে গণভোটের হ্যাঁ মার্কায় সমর্থন জানালেও গোপনে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে না ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন কমা এই ধরনের রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী আচরণ এ দেশের সচেতন মানুষ মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন কমা গত ২৪ বছরের পরিবারতন্ত্র ও বস্তাপচা রাজনীতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে আজ যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে কমা তা মূলত একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা।
সমাবেশে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আবেগ ও ক্ষোভ দেখা যায়। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় যোদ্ধা হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি জোটের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন কমা হাদি হত্যার খুনিরা এখনো প্রকাশ্য ঘুরছে। ১১ দলীয় জোটের সরকার গঠন হলে দ্রুততম সময়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে।
বক্তারা দাবি করেন কমা বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। মানুষ আর পুরোনো পরিবারতন্ত্রের কাছে ফিরতে চায় না। মাওলানা মামুনুল হক বলেন কমা চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্যই ছিল বৈষম্যহীন সমাজ গড়া। আমরা সেই লক্ষ্যপূরণে বদ্ধপরিকর।
চৌদ্দগ্রামের এই সমাবেশ প্রমাণ করে যে কমা জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসন্ন নির্বাচনে একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণহত্যার বিচার এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান তাঁদের প্রচারণার মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
জুলাই গণহত্যা ও শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার কমা বিদেশি হস্তক্ষেপ ও আধিপত্যবাদ মুক্ত জাতীয় সংসদ কমা গোপন না ভোটের প্রচারণার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক করা এবং পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন ধারার রাজনীতি ও ইনসাফ কায়েম করা হলো এই জোটের প্রধান অঙ্গীকার।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন