বিজয়ীদের সাথে পরাজিতরাও হবে দেশ গড়ার কারিগর: অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ডাক দিলেন জামায়াত আমির

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
বিজয়ীদের সাথে পরাজিতরাও হবে দেশ গড়ার কারিগর: অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির ডাক দিলেন জামায়াত আমির

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আজ এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন কমা জামায়াত এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে কেবল বিজয়ী পক্ষ নয় কমা বরং পরাজিত পক্ষকেও দেশ গঠনে সঙ্গে রাখা হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে কমা কিন্তু দেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমরা সবাইকে সঙ্গী করতে চাই।

জুলাই কমা আগস্টের ছাত্র কমা জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন কমা চব্বিশের রাজপথে জনগণ যে রক্তক্ষয়ী বিপ্লব করেছিল কমা আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এবারের ভোট কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের নয় কমা এটি মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ভোট। তিনি বিশ্বাস করেন কমা ভোটাররা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বৈরতন্ত্রের অবশেষ নির্মূল করবেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাইরের কোনো শক্তির প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন কমা এ দেশের মসনদে কারা বসবেন কমা তা ঠিক করবে কেবল বাংলাদেশের জনগণ। বাইরের কোনো শক্তি যদি নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে কমা তবে এ দেশের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় দূর করে ডা. শফিকুর রহমান প্রতিশ্রুতি দেন কমা জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের মানুষের জান কমা মাল ও ইজ্জতের শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন কমা আমাদের শাসনামলে কোনো নাগরিক তার ধর্মের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না। সংখ্যালঘু ভাই কমা বোনেরা শান্তিতে তাদের ধর্মীয় আচার ও জীবনযাপন করবেন কমা এটাই আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে কমা প্রতিশোধের রাজনীতিকে জামায়াতে ইসলামী ধর্মীয়ভাবেই নিষিদ্ধ মনে করে।

সমাবেশে বিশেষ আকর্ষণ ছিল জামায়াতের নায়েবে আমির ও চৌদ্দগ্রাম আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্য। তিনি নিজেকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে তুলে ধরে বলেন কমা আমি কেবল জামায়াতের নেতা নই কমা আমি আপনাদের সবার তাহের ভাই। এই মঞ্চে আজ বিএনপি এবং অন্য দলের অনেক নেতাও রয়েছেন। আমরা রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন হতে পারি কমা কিন্তু মানুষ হিসেবে ও উন্নয়নের প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ভোটারদের উদ্দেশ্য করে বলেন কমা সংসদ সদস্য হিসেবে তাকেই বেছে নেওয়া উচিত যিনি দলের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র জনগণের সেবা করতে পারবেন। চৌদ্দগ্রামের এই সমাবেশ থেকে জামায়াতে ইসলামী এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দিল। পরাজিত রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করার ঘোষণা এবং রাজপথের আন্দোলনকে ব্যালট বিপ্লবে রূপান্তরের এই আহ্বান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

বিদেশি প্রভাবমুক্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি এবং প্রতিহিংসা ভুলে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার এই জনসভার মূল উল্লেখযোগ্য দিক। দলীয় পরিচয়ের বাইরে সবার ভাই হয়ে সেবা করার এই প্রতিশ্রুতি ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে কতটুকু প্রভাব ফেলে কমা এখন সেটিই দেখার বিষয়।

জেএইচআর