আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল চষে বেড়াবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার তিনি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্থানে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ব্যাপক রাজনৈতিক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
সকাল থেকেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সমর্থনে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলগুলোতে জড়ো হতে শুরু করেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আজকের এই পাঁচটি সমাবেশে ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে জামায়াতের আমির আজ দিনভর ব্যস্ত সময়সূচিতে বিভিন্ন এলাকায় জনসভা ও সমাবেশে অংশ নেবেন। সকাল ৯টায় তিনি কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর সকাল ১০টায় বাহারছড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে অনুষ্ঠিত ১১-দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন। বেলা ১১টায় তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেবেন। দুপুর ২টায় সীতাকুণ্ডে উত্তর চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গণসংযোগ ও সভা করবেন। দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত নির্বাচনী মহাসমাবেশে তিনি ভাষণ দেবেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আজকের সমাবেশগুলোতে ডা. শফিকুর রহমান কেবল ভোটই চাইবেন না, বরং একটি ‘ন্যায়ভিত্তিক সমাজ’ ও ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরবেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরের জনসভায় তিনি চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, ব্যবসায়-বান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দলের বিশেষ পরিকল্পনা বা ‘জুলাই চার্টার’ উপস্থাপন করবেন।
লোহাগাড়ার সমাবেশে তিনি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিসহ আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।
জামায়াত আমিরের এই মেগা সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিন স্তরের নিরাপত্তা: জনসভাস্থলগুলোতে পুলিশ, বিজিবি ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বন্দর এলাকায় বিধিনিষেধ: উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সিএমপি কর্তৃক সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নির্বাচনী প্রচারণাকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আসনগুলো জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমিরের এই সশরীরে উপস্থিতিতে জোটের শরিকদের মধ্যে যেমন সংহতি বাড়বে, তেমনি সাধারণ ভোটারদের কাছে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বিশেষ করে কক্সবাজারের বাহারছড়া মাঠে ৫ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটানোর যে টার্গেট নেওয়া হয়েছে, তা সফল হলে এটি হবে এই অঞ্চলের নির্বাচনী ইতিহাসের এক বড় মহড়া।
নির্বাচনের ১০ দিন আগে ডা. শফিকুর রহমানের এই ঝটিকা সফর দক্ষিণাঞ্চলের ভোটের হাওয়া কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিকেল ৫টায় চট্টগ্রাম বন্দরের সমাবেশের মধ্য দিয়ে তাঁর আজকের সফরের সমাপ্তি ঘটবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন