রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের অভিযোগ এনসিপির

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের অভিযোগ এনসিপির

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেন, নিরপেক্ষতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই করেই প্রিজাইডিং অফিসার নির্ধারণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্য থেকে যাদের প্রিজাইডিং অফিসার হওয়ার কথা, তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য সংগ্রহে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আনুষ্ঠানিক কোনো ভূমিকা থাকার কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, মধ্য ও উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদেরই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে করে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং ভোটে কারচুপির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে চাকরি ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বিবেচনার উদাহরণ থাকলেও এবার নির্বাচন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও একই ধারা দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এনসিপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন আয়োজনের আগেই তার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কিছু সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চাপের মুখে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কারণ তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং কোনো বিশেষ দলকে সুবিধা দিচ্ছেন না। এনসিপির দাবি, প্রশাসনের কিছু অংশ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনে বিরোধী দলের অভিযোগ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না, অথচ ক্ষমতাসীন দলের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেএইচআর