কলকাতা আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইসিসিআর) মিলনায়তনে এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল বক্তৃতা করেছেন গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও সেই সময়ে হতাহতদের নিয়ে জয়ের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর বক্তব্যে বলেন, কমা ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় অনেক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হয়েছে কমা যা তাঁর মতে ছিল একটি ভুল। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য ঘিরে কলকাতার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলেছেন কমা আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন।
প্রথম প্রতিক্রিয়া এসেছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতা সংবাদমাধ্যমকে জানান, কমা কলকাতার কোনো বই প্রকাশ অনুষ্ঠান বা জনসাধারণের সভায় এ ধরনের বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষণ হওয়া উচিত নয়। এমন মন্তব্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, কমা কলকাতা আমাদের সাংস্কৃতিক রাজধানী কমা এখানে এ ধরনের রাজনৈতিক কণ্ঠ ওঠা উচিত কি না কমা তা নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ রয়েছে।
অন্যদিকে, কমা বিজেপির প্রতিনিধি পঙ্কজ রায় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গণমাধ্যমকে বলেন কমা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত ব্যক্ত করা প্রতিটি মানুষের অধিকার। বই প্রকাশনা একটি সাহিত্যিক বিষয় হলেও এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকলে তা নিয়ে সুস্থ আলোচনার পথ খোলা থাকা উচিত।
ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল মনে করেন কমা বই প্রকাশের অনুষ্ঠানের আড়ালে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য চলে গেছে। তাঁর মতে কমা এই বক্তৃতা কেবল সাহিত্যিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক ইস্যুতে জনমতকে বিভক্ত করেছে। পশ্চিমবঙ্গের লেখক ও পরিচালক দীপ হালদারও একই অভিমত প্রকাশ করে বলেন কমা সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ছিল বইয়ের গল্প ও সাহিত্যকে তুলে ধরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক মনে করেন কমা সব মত প্রকাশের অধিকার থাকলেও পত্রিকার পাতা বা রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে এই ধরনের বিষয়গুলো আসা বেশি সমীচীন। এদিকে, সরকার সমর্থিত বামপন্থি এক বিশ্লেষক বলেন কমা কলকাতার মঞ্চে এমন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার আগে স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশ কমা ভারত সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে ভাবা উচিত ছিল।
কলকাতার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কমা কোনো সাহিত্য বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন বক্তৃতা দেওয়া কতটা যৌক্তিক। তবে অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠন ‘খোলা হাওয়া’-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে কমা এটি নিছক একটি সাহিত্যিক অনুষ্ঠান। তাঁরা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যকে রাজনৈতিক মন্তব্য না বলে বইয়ের প্রেক্ষাপটে সমকালীন বাস্তবতা তুলে ধরার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
এই বিতর্ক এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রূপ না নিলেও স্থানীয় রাজনীতি ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনার নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন