নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেই বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির আঙিনায় এক বিশাল চমক দেখাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্রনেতারা।
দীর্ঘ তিন দশক পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ বা জাকসুর নির্বাচিত সহ সভাপতি বা ভিপি আবদুর রশিদ জিতু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে বা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তার সঙ্গে বিভিন্ন হল সংসদের একঝাঁক নির্বাচিত শীর্ষ নেতাও বিএনপির পতাকাতলে শামিল হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ ছাত্রনেতাদের বরণ করে নেওয়া হয়। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ নবাগতদের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে এ যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গত নির্বাচনে জয়ী হওয়া জনপ্রিয় ছাত্রনেতাদের এ যোগদান ছাত্রদল ও বিএনপির জন্য এক বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জাকসু কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি বা ভিপি আবদুর রশিদ জিতু।
এ ছাড়া শহীদ সালাম বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক বা জিএস মাসুদ রানা মিন্টু, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ভিপি জিএম রায়হান কবীর ও সহ সাধারণ সম্পাদক বা এজিএস রিপন মন্ডল, নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বনিক, নওয়াব ফয়জুননেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা বিথি।
মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম রিয়াদ এবং শহীদ রফিক জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলামও বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
যোগদান শেষে জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু বলেন, দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির বিকল্প নেই। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি। জাবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা এবং ইনসাফ কায়েমের রাজনীতিকে বেগবান করতেই আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উল্লেখ্য যে, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৩ বছরের বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়ে অনুষ্ঠিত সেই জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতেই ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল। তবে নির্বাচিত অনেক নেতাই এখন জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর মঞ্চে বিএনপির ছাতার নিচে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেধাবী ও নির্বাচিত ছাত্রনেতাদের এ যোগদান প্রমাণ করে যে তরুণ প্রজন্ম বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকারের ওপর আস্থা রাখছে। নয়াপল্টনের সম্মেলনে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এ অংশগ্রহণ আগামীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নতুন প্রাণশক্তি জোগাবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ যোগদান নিয়ে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকে মনে করছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া ছাত্র সংসদের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের কর্মীরা এ ঘটনাকে তাদের রাজনীতির এক বিশাল জয় হিসেবে উদযাপন করছে। জাকসু ভিপিসহ হল সংসদের প্রতিনিধিদের বিএনপিতে এ যোগদান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মাঝে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন ক্যাম্পাসের নির্বাচিত নেতাদের এ অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণের আভাস দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ইএইচ
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন