আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরের জনপদ নীলফামারীতে আজ এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে উল্লসিত জনতার মাঝে তিনি আগামীর বাংলাদেশের এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তৃতায় সবচেয়ে বড় চমক ছিল, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
নীলফামারী ও আশপাশের জেলার মানুষের কৃষি ও জীবনযাত্রার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু তিস্তা নদী। বছরের পর বছর ধরে তিস্তার পানি বণ্টন ও সংস্কার নিয়ে যে সংকট চলছে, তার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ১২ তারিখ যদি আপনারা ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে সেবা করার সুযোগ দেন, তবে সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ হবে যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। তিনি চান এই এলাকা আবার সবুজ ও শস্য শ্যামলা হয়ে উঠুক এবং কৃষকের মুখে হাসি ফুটুক।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ ডিজিটাল বা বৈদ্যুতিন কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের প্রতিটি নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড বা পারিবারিক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নারীরা সরাসরি সরকারের আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা পাবেন। মা বোনদের স্বাবলম্বী করাই হবে এই কার্ডের মূল লক্ষ্য।
এই অঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রবর্তনের কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজে বীজ, সার ও ঋণের সুবিধা পাবেন, যা কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড এবং সৈয়দপুরের শিল্পাঞ্চল নিয়েও তারেক রহমান তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, নীলফামারী ইপিজেডকে আরও বড় করা হবে যাতে স্থানীয় যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ এলাকার রেল কারখানাসহ ঝিমিয়ে পড়া শিল্পগুলোকে আধুনিকায়ন করে পূর্ণশক্তিতে চালু করা হবে। এ ছাড়া নীলফামারীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতিও তিনি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা জানান।
একটি বিশেষ মানবিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত বা ধর্মগুরুরা অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য সম্মানজনক মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। বক্তৃতার শেষ দিকে তারেক রহমান ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন যে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে। কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাবে বা কোনো অন্যায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১২ তারিখ আপনারা শুধু ভোটই দেবেন না, বরং দেশ গড়ার পবিত্র দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন তারেক রহমানের এই সফরে তিস্তা ইস্যু এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনপ্রিয় প্রতিশ্রুতিগুলো উত্তরের জেলাগুলোতে বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে সাধারণ নারীদের জন্য সরাসরি সরকারি সহায়তার বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর দেওয়া এই উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলো পুরো উত্তরবঙ্গকে অর্থনৈতিকভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন