নির্বাচিত হলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০২:১২ পিএম
নির্বাচিত হলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

ঢাকার মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠ আজ পরিণত হয়েছিল এক রাজনৈতিক মিলনমেলায়। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নেতৃত্বের এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে নিয়ে তার মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনসভার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তরুণ নেতা নাহিদ ইসলাম। জামায়াত আমির তাকে শুধু একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের 'পাইলট' হিসেবে অভিহিত করেন। 

শফিকুর রহমান বলেন, আজকের এই তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশের উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন। নাহিদ ইসলামরা যখন সামনের আসনে বসে দেশ পরিচালনা করবেন, আমরা তখন পেছনের সিটে যাত্রী হিসেবে বসে তাদের পথ চলায় সমর্থন দেব।

তিনি ঘোষণা করেন, ইনসাফ কায়েমের পক্ষে জনগণের রায় অর্জিত হলে গঠিত নতুন সরকারে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এই সংহতি কেবল ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়, বরং অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের এক মেলবন্ধন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা স্মরণ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ করুণা বা দয়া চায় না। 

তিনি উল্লেখ করে বলেন, তরুণরা রাস্তায় নেমেছিল অধিকার আদায়ের জন্য, কোনো দয়ার দান হিসেবে বেকার ভাতা পাওয়ার জন্য নয়। তাদের মূল দাবি ছিল মেধা অনুযায়ী কাজের ন্যায্য সুযোগ। মা-বোনদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী পাঁচ বছর হবে জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের সময়। প্রতিটি নাগরিকের হকের পাহারাদারি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চলমান বিশৃঙ্খলার সমালোচনা। নাম উল্লেখ না করলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "আপনারা দীর্ঘ সময় মজলুম ছিলেন, কিন্তু দয়া করে জালিম হবেন না।"

আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ এই 'দখলদারিত্বের রাজনীতি'কে লাল কার্ড দেখাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে নাহিদ ইসলামের হাতে 'শাপলাকলি' প্রতীক তুলে দেন শফিকুর রহমান। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং নাহিদ ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এই ত্রিভুজ শক্তির অবস্থান নির্বাচনে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।

জনসভার সমাপ্তিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শফিকুর রহমান বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটির নিরাপত্তা এবং ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, বরং এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার দিন।


এএন