ঢাকা-১১ আসনের মাটি ও মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আজ এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল দেশকে পুনরায় গভীর সংকটে ফেলার নীল নকশা তৈরি করছে।
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে কারো নাম উল্লেখ না করলেও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি দল বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল ভোট নয়, এটি হবে সেই ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজিত করার দিন। আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার, বাংলাদেশকে দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত এবং চিরতরে সন্ত্রাসমুক্ত করা।
তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা যেভাবে অদম্য সাহসে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল, ১২ ফেব্রুয়ারি ঠিক একইভাবে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে সেই বিজয়ের ফসল ঘরে তুলতে হবে। তাঁর মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলে ৫ আগস্টের মহান বিপ্লব ব্যর্থ হয়ে যাবে।
ঢাকা-১১ আসনের (বাড্ডা-ভাটারা) নাগরিক সুবিধা নিয়ে নাহিদ ইসলাম যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, তা তথাকথিত উন্নয়নের ফানুসকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। তাঁর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এই এলাকার করুণ চিত্র:
এই বিশাল নির্বাচনী এলাকায় একটিও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নেই। ১১ লাখ মানুষের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ১৫টি। ফলে সাধারণ মানুষকে শিক্ষার জন্য ব্যয়বহুল প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে।
এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। চিকিৎসার জন্য এখানকার ১০০ ভাগ মানুষই বেসরকারি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল, যা নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য অসাধ্য।
সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার ৬০ শতাংশ রাস্তা তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধতা এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। এই এলাকায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ, যাদের জন্য কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়নি।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং খেটে খাওয়া মানুষের এই জনপদে সরকারি স্কুল, হাসপাতাল ও পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।
জনসভায় এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অসারতা প্রমাণ করে বলেন, আপনারা নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ করার কথা বলছেন, অথচ সেখানে আগে থেকেই মেডিকেল আছে। কুমিল্লায় ২৫ বছর ধরে ইপিজেড থাকলেও আপনারা নতুন করে করার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। ময়মনসিংহে যেখানে ভুট্টা হয়, সেখানে বলছেন সয়াবিন হয়! আপনারা তো দেশটাকেই চেনেন না, মানুষের সমস্যা কী বুঝবেন কীভাবে?
আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য উপস্থিত জনতার মাঝে হাসির উদ্রেক করলেও এটি একটি গভীর সত্য নির্দেশ করে- তৃণমূলের সাথে দূরত্ব রেখে বড় বড় স্বপ্ন দেখানো নেতাদের আর গ্রহণ করবে না জনগণ।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন