হাসনাত আবদুল্লাহ

যারা মা-বোনদের বোরকা খুলতে চায়, তারা দেশকেও বিবস্ত্র করবে

জহুরুল ইসলাম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
যারা মা-বোনদের বোরকা খুলতে চায়, তারা দেশকেও বিবস্ত্র করবে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘গত এক মাস ধরে একটি দল মা-বোনদের হিজাব ও বোরকা টেনে খুলে ফেলতে চাইছে। আজ যারা মা-বোনদের বোরকা খুলতে চায়, তারা ক্ষমতায় আসলে পুরো বাংলাদেশকে বিবস্ত্র করে ফেলবে।’

রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের জনসভায় হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন। 

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজের সমর্থনে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

ভোটকেন্দ্র দখলকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে এবার যদি কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন, তবে তারা আর বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন না। মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে আসবেন; কারণ, সেটিই হবে আপনাদের শেষ দিন। শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ তরুণ প্রজন্মকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ভারত, ব্যবসায়ী কুলাঙ্গার, মিডিয়া মাফিয়া ও অতীতের বস্তাপচা রাজনীতিবিদরা চায় না তরুণরা জিতুক। চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজরাও এর বিপক্ষে। এ লড়াই জেতানোর দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।

প্রশাসনের উদ্দেশে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘বিগত তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, মৃত মানুষকে কবর থেকে তুলে ভোট দেওয়া হয়েছে। ওসি-কনস্টেবল থেকে শুরু করে এসপি-ডিসিরা এর সাক্ষী। জনগণের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আগামী নির্বাচনে জনতার কাতারে নেমে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করুন।’

গণমাধ্যমের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অনেক সাংবাদিক মালিকপক্ষের চাপে সত্য প্রচার করতে পারেন না। ৫ আগস্টের পর একটি দল টেলিভিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করে মিডিয়া মাফিয়াগিরি শুরু করেছে।

শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মওলানা রফিকুল ইসলাম খাঁন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খাঁনের হাতে হাত রেখে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

ইএইচ