ব্যালটের মাধ্যমে নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা জামায়াত আমিরের

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
ব্যালটের মাধ্যমে নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশা জামায়াত আমিরের

ভোর থেকেই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোটারদের দীর্ঘ সারি আর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালক শাখা কেন্দ্রে উপস্থিত হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং দীর্ঘ সময় পর ভোট দিতে পারার আনন্দ প্রকাশ করেন।

ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ দিন। আমরা দীর্ঘকাল পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এই ব্যালটের মাধ্যমেই আজ দেশে একটি নতুন দিনের সূচনা হলো। মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আক্ষেপের অবসান ঘটাবে। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা রক্ষা পাবে এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে জনগণের ইচ্ছায়।

এবারের নির্বাচনকে কেবল কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের জয় হিসেবে দেখছেন না জামায়াত আমির। তিনি একে দেখছেন জনগণের মহাবিজয় হিসেবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি সরকার গঠিত হোক, যা নির্দিষ্ট কোনো পরিবার বা গোষ্ঠীর নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের সরকার হিসেবে পরিচিতি পাবে। যারা হবে জনগণের সেবক এবং যেখানে দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পান, তবে দল মত নির্বিশেষে সবার জন্য হক ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের ক্যামেরার লেন্স যেন সত্যকে তুলে ধরে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোট চলাকালে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুটা সতর্ক বার্তা উচ্চারণ করেন। তাঁর মতে, ছোটখাটো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমরা মেনে নেব, কারণ বড় একটি যজ্ঞে তা অস্বাভাবিক নয়। তবে যদি বড় ধরনের কোনো জালিয়াতি বা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনরায় বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। জনগণের আমানত রক্ষায় আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে তা রুখে দেব।

রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত এই কেন্দ্রে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ডা. শফিকুর রহমানের সাথে এ সময় স্থানীয় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা। তাঁর প্রধান দাবি হলো পরিবারতন্ত্রের অবসান ও জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা। 

তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়া ও ফলাফল নিয়ে ফেরার আহ্বান জানান। ডা. শফিকুর রহমানের এই ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং তাঁর দেওয়া বক্তব্য বিরোধী শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তাঁর এই নতুন দিনের সূচনার বার্তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ক্ষমতার পরিবর্তনের একটি বড় সংকেত। এখন দেখার বিষয়, বিকেলের দিকে যখন ব্যালট গণনা শুরু হবে, তখন জনগণের রায় কোন দিকে যায়।

জেএইচআর