ফরিদপুর–২ (সালথা–নগরকান্দা) সংসদীয় আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত পাওয়া ১৯টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফলে আধিপত্য বজায় রেখেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামা ওবায়েদ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টিতেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন শামা ওবায়েদ। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আকরাম আলী মাত্র ৩টি কেন্দ্রে এগিয়ে আছেন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে ভোটের ব্যবধান ৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া ১৯ কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে মোট ২১ হাজার ১৩৬ ভোট। বিপরীতে রিকশা প্রতীকে ভোট পড়েছে ১৩ হাজার ৬৪৫টি। অর্থাৎ প্রথম ধাপের এই ১৯টি কেন্দ্রে শামা ওবায়েদ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭ হাজার ৪৯১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের এই আসনে শামা ওবায়েদ তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছেন বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
উল্লেখ্য, শামার বাবা প্রয়াত ওবায়দুর রহমান বিএনপির সাবেক মহাসচিব ছিলেন এবং এই আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রার্থীরা নিজ নিজ ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত কেন্দ্রগুলোতে বিপুল ভোট পেয়েছেন। নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যা শামা ওবায়েদের নিজস্ব কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৪৪০ ভোট। এই কেন্দ্রে রিকশা প্রতীকের শাহ আকরাম আলী পেয়েছেন মাত্র ৩৭১ ভোট।
অন্যদিকে সালথা উপজেলায় শাহ আকরাম আলীর নিজ কেন্দ্র বাহিরদিয়া মাদ্রাসায় তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৫০০ ভোট। এই কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে মাত্র ২২৫টি ভোট। এই দুই কেন্দ্রের ফলাফল প্রলয়ংকারী হলেও সামগ্রিক বিচারে শামা ওবায়েদ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
শামা ওবায়েদ এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রয়াত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। যদিও কয়েকটি কেন্দ্রে রিকশা প্রতীক বড় ব্যবধানে ভোট পাওয়ায় ব্যবধানে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে, তবুও অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষের জয়জয়কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনী এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। শামা ওবায়েদ এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের তথ্য আসার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ মানুষ।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন