জুলাই সনদে আজ স্বাক্ষর করছে এনসিপি

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
জুলাই সনদে আজ স্বাক্ষর করছে এনসিপি

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আদর্শিক উত্তরাধিকারী হিসেবে পরিচিত জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এক দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। 

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি ক্ষুদে বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের যে মহাপরিকল্পনা এই সনদে রয়েছে, তাতে এনসিপির অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে নতুন সরকারের যাত্রালগ্নে এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যখন ২৫টি রাজনৈতিক দল এই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, তখন এনসিপি রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির কারিগরদের নিয়ে গঠিত এই দলটি তখন অভিযোগ তুলেছিল, সনদের খসড়া তৈরিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের মতামত পর্যাপ্তভাবে নেওয়া হয়নি।

পাশাপাশি সনদের কিছু ধারার আইনি ভিত্তি ও প্রয়োগ নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় ছিল। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণের বিপুল সমর্থন এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপি শেষ পর্যন্ত এই ঐকমত্যের দলিলে শামিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ মূলত ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কারের একটি নীল নকশা। এর মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীত্বে সীমাবদ্ধতা। কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

এ ছাড়াও উচ্চকক্ষ গঠনের মাধ্যমে আইনসভায় ভারসাম্য আনা এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালুর প্রস্তাব রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও এই সনদের অন্যতম লক্ষ্য।

একই সাথে নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সংস্কার প্রস্তাব এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আজকের এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এনসিপির মতো একটি লড়াকু দলকে সংস্কারের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস।

দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সন্ধ্যায় যমুনায় প্রবেশ করবেন। প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের স্বাগত জানাবেন। এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করার ফলে বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে এখন জাতীয় ঐকমত্য আরও জোরালো হলো।

এনসিপি মনে করে, এই সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তারা শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের ঠিক আগ মুহূর্তে এনসিপির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কৌশলী।

এতে করে নবনির্বাচিত সরকারের ওপর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নৈতিক চাপ আরও বাড়বে। এনসিপি এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা সংসদে একটি গঠনমূলক ও আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। এই সনদই হবে তাদের তদারকির মূল মাপকাঠি।

যে বিপ্লব রাজপথে শুরু হয়েছিল, তা আজ যমুনার টেবিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এক প্রশাসনিক রূপ নিতে যাচ্ছে। এনসিপির এই অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত সব অংশীদারই এক বিন্দুতে মিলিত হচ্ছে।

আজ সন্ধ্যার এই স্বাক্ষর কেবল একটি দলিলে সই নয়, বরং আগামীর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের একটি অলিখিত রক্ষাকবচ। রাষ্ট্র সংস্কারে জাতীয় ঐকমত্য পূর্ণতা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জেএইচআর